ঢাবির জগন্নাথ হলে সরস্বতী পূজায় ‘মবতন্ত্রবিরোধী’ মণ্ডপ

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা আজ শুক্রবার। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ দেবী সরস্বতীর বন্দনায় ঢাক-ঢোল-কাঁসর, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে। 

সরস্বতী দেবী শ্বেতশুভ্রবসনা। দেবীর এক হাতে বেদ, অন্য হাতে বীণা। এজন্য তাকে বীণাপাণিও বলা হয়। শাস্ত্রমতে, প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে কল্যাণময়ী বিদ্যাদেবীর বন্দনা করা হয়।

এবারের সরস্বতী বন্দনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হল সেজেছে ভিন্নরূপে। এরমধ্যে ব্যতিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। তারা মণ্ডপ বানিয়েছে পুড়িয়ে দেওয়া গণমাধ্যমের আদলে।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের এবারের পূজার মূল থিম 'মবতন্ত্র' এবং সম্প্রতি দেশের শীর্ষ দুই গণমাধ্যমে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদ। 

সকালে অঞ্জলি প্রদানের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ হলের মণ্ডপগুলোতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

বিভাগের এক আয়োজক ও শিক্ষার্থী আনুষ্কা চক্রবর্তী বলেন, 'সরস্বতী পূজায় আমরা দেবীর কাছে সমৃদ্ধ একাডেমিক জীবন, সৃজনশীলতা ও অনুগ্রহ কামনা করি। একইসঙ্গে আমরা আমাদের থিমের মাধ্যমে সমাজের নানা বিষয় তুলে ধরি ও প্রতিবাদ জানাই। প্রতি বছরই আমরা সমাজে চলমান ঘটনাবলির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন থিম নির্ধারণ করি।'

'এ বছর মব হামলায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন হয়েছে। সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো আমাদের দায়িত্ব। সাংবাদিকতা জনস্বার্থে কাজ করে এবং সত্য তুলে ধরে। কিন্তু যখন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মম হামলার শিকার হয়, তখন তা সমাজ ও ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়', বলেন তিনি।

জগন্নাথ হল প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এ বছর মোট ৭৬টি পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে বলে তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

জগন্নাথ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত প্রামাণিক বলেন, 'আমাদের ৭৪টি বিভাগ নিজস্ব মণ্ডপ স্থাপন করেছে এবং হল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুটি প্রতিমা দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও এই ভেন্যুতে সবচেয়ে বড় পূজার আয়োজন করা হয়েছে।'