চবিতে ধূমপানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, প্রক্টর আহত

নিজস্ব সংবাদদাতা, চবি

ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় ধূমপানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ছাত্রশক্তির এক নেতা অভিযোগ করেছেন, তাকে শাহজালাল হলে ডেকে নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মারধর করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, একজন সহকারী প্রক্টর ও কয়েকজন শিক্ষার্থীও আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একাধিক সূত্র জানায়, গত ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ব্রাজিল বনাম জাপান ফুটবল ম্যাচ বড় পর্দায় প্রদর্শনের আয়োজন করে।

খেলা চলাকালে নারী দর্শকদের জন্য নির্ধারিত স্থানের পাশে এক শিক্ষার্থী সিগারেট ধরালে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আল-আমিন মামুন এর প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

পরে ওই রাতেই জিরো পয়েন্ট এলাকায় ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী আল-আমিন মামুনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সদস্য বলে দাবি করেছে ছাত্রদল।

মঙ্গলবার রাতে আবারও জিরো পয়েন্ট এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং নতুন করে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সদস্য পলাশ মোল্লা শাহজালাল হলের ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানা যায়।

রাকিব বলেন, ছাত্রশক্তির নেতা উলফাতুর রহমান রাকিবকে ফোন করে পলাশকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। রাকিব মোটরসাইকেলে করে তাকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান।

রাকিবের অভিযোগ, এরপর ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা তাকে শাহজালাল হলে আসতে বলেন। তিনি সেখানে পৌঁছানোর পর ২০ থেকে ৩০ জন তাকে ঘিরে মারধর করেন। তারা তার গলা চেপে ধরে, লাথি মারে ও গালিগালাজ করে। 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে রক্ষা করতে গেলে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদেরও মারধরের শিকার হতে হয়।

রাকিব বলেন, আমি যদি কোনো অন্যায় করে থাকি, তাহলে তার বিচার হোক। নইলে আমি আইনি ব্যবস্থা নেব।

তবে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আল-আমিন মামুন দাবি করেন, এ ঘটনার সূত্রপাত আগের বিরোধ থেকেই।

তিনি বলেন, ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় দিশান ও ইয়াফির মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। আমি কয়েকজনকে নিয়ে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় দিশান, পলাশ মোল্লা, রেজাউরসহ কয়েকজন আমাদের ওপর হামলা করে। পরে আমরা একত্রিত হলে ছাত্রশক্তির নেতা উলফাতুর রহমান রাকিব হামলায় জড়িত দুজনকে মোটরসাইকেলে করে সরিয়ে নিয়ে যান। তিনি ফিরে আসার পর আবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

রাকিবকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবেদ। তিনি বলেন, জিরো পয়েন্টে আমাদের কর্মী মামুনের ওপর হামলার খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। গিয়ে দেখি, ছাত্রশক্তির নেতা উলফাতুর রহমান রাকিব হামলায় জড়িত বলে অভিযোগ থাকা দুজনকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাচ্ছেন। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সদস্য।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন বলেন, মঙ্গলবার ছাত্রদলের কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচি ছিল। কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে নেতাকর্মীরা আগে থেকেই উত্তপ্ত একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

তিনি বলেন, নারী দর্শকদের পাশে ধূমপানকে কেন্দ্র করে বিরোধের শুরু। সেই বিরোধের জেরেই আমাদের কর্মী আল-আমিন মামুনের ওপর হামলা হয়েছে। পরে আমাদের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। সবাই উত্তেজিত ছিল। আমি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি।

সংঘর্ষের সময় সাংবাদিকদেরও মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইয়াসিন বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজন সাংবাদিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, তদন্তে আমাদের কোনো নেতা বা কর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, আগের দিনের ফুটবল ম্যাচ ঘিরে বিরোধ থেকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। একজন আহত হয়েছেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় আমরা দুই পক্ষকেই শান্ত করার চেষ্টা করেছি। আজ বুধবার উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।