জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ১৩

নিজস্ব সংবাদদাতা, জবি

জুতা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল রাতে পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড় এলাকায় এ ঘটনায় দুই সাংবাদিক ও পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

আহত সাংবাদিকদের মধ্যে একজন আমার দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক লিমন ইসলাম। অন্যজন দৈনিক সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অপূর্ব রায়।

পুলিশের ডেমরা বিভাগের সহকারী উপকমিশনার (এডিসি) মীর মুহসিন মাসুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামের মুরগিটোলার মেস থেকে একজোড়া জুতা চুরি যাওয়াকে কেন্দ্র করে রাত ১টার দিকে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে জুতা চুরির ঘটনায় স্থানীয় মাইকেল নামের এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। এরপর কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ধরে ফেলেন। অভিযোগ ওঠে, এ সময় স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে মাইকেলকে ছাড়িয়ে নেন এবং শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।

এ ঘটনার পরপরই হামলাকারীদের খুঁজতে কয়েক শ শিক্ষার্থী মুরগিটোলা মোড়ে জড়ো হন। সে সময় হামলাকারীরা থাকতে পারে সন্দেহে শিক্ষার্থীরা একটি বাসা ঘেরাও করেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘হামলাকারীদের’ ওই বাড়ি থেকে বের করে আনার সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশকে বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে শিক্ষার্থীসহ সাংবাদিকরা আহত হন।

সাংবাদিক লিমন ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে লাঠিপেটা করেন। তিনি মুখে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়েছেন।

আযহারুল নামের এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি শান্তিপূর্ণভাবেই দাঁড়িয়ে ছিলেন, কিন্তু পুলিশ হঠাৎ করেই শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। তার মাথায় আঘাত লেগেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করব।’

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এই লাঠিপেটার প্রতিবাদে রাত আড়াইটা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা মুরগিটোলা মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা মীর মুহসিন মাসুদ বলেন, পুলিশ পরে মাইকেল এবং আশিকুর রহমান আশিক নামের দুজনকে আটক করেছে।

লাঠিপেটার ঘটনা নিয়ে এই এডিসি বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের হেফাজত থেকে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পুলিশকে লাঠিপেটা করতে হয়েছে। এ ঘটনায় আমাদের পাঁচ জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।