রাকসু জিএস আম্মার সংশ্লিষ্ট ২ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি এক বছরেও

নূর আহসান মৃদুল
নূর আহসান মৃদুল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারকে ঘিরে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া তিনটি ভিন্ন ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কমিটি দেড় বছর ও আরেকটি এক বছর আগে কাজ শুরু করলেও এখনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও কমিটিগুলোর দাবি, প্রক্রিয়াগত কারণে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হচ্ছে। তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলছে।

একটি তদন্ত কমিটি করা হয় গত বছরের ২ জানুয়ারি। সেবার পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তখন একটি তদন্ত কমিটি করা হয়।

ওই ঘটনার জেরে সেপ্টেম্বরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠলে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

পোষ্য কোটা বাতিলের আন্দোলন এবং পরে এই কোটা আবার পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন—দুটিরই নেতৃত্ব দেন তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার।

সবশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় গত ২৭ জুলাই। এবার রাবির দুই শিক্ষার্থীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে সালাউদ্দিন আম্মার ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাদের বিরুদ্ধে।

তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দ্বিতীয় কমিটির প্রধান ছিলেন অধ্যাপক এম ফখরুল ইসলাম। তাদের প্রাথমিকভাবে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।’

‘পরে কমিটি আমাদের জানায় এটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের বিষয় নয়। কারণ হিসেবে জানায় সেটি স্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধ ছিল। এ ধরনের ঘটনায় ফৌজদারি মামলা করা প্রয়োজন। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমাদের মামলা করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রতিবেদন জমা পড়েনি,’ বলেন তিনি।

ঘটনার দেড় বছরেরও বেশি সময় পার হওয়ার পরও প্রথম প্রতিবেদন কেন জমা দেওয়া হলো না—জানতে চাইলে প্রথম কমিটির প্রধান অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিবেদন প্রায় প্রস্তুত। কিন্তু সিন্ডিকেটে পেশ করার আগে কমিটির কয়েকজন সদস্য পরামর্শ দিয়েছেন যে, ঢালাও শাস্তি না দিয়ে যার যতটুকু শাস্তি প্রাপ্য তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা।’

‘এ কারণেই এটি এখনো জমা দেওয়া হয়নি। চলতি আগস্টেই প্রতিবেদন জমা দিতে পারব বলে আশা করছি,’ বলেন তিনি।

দ্বিতীয় প্রতিবেদনের বিষয়ে অধ্যাপক এম ফখরুল ইসলাম দাবি করেন, কমিটির কাজ শেষদিকে ছিল।

ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'কমিটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার পর সদস্যদের জানানো হয় যে এটি আর সিন্ডিকেটে জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিবেদনটি আর জমা পড়েনি।'

সবশেষ গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক রেজাউল করিম জানান, কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

তিনি বলেন, 'আমাদের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও আমরা যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত শেষ করতে চাই। কমিটির দুই সদস্য বর্তমানে রাজশাহীর বাইরে থাকায় কাজটি এগোয়নি। আমরা আগামী সোমবার থেকে আবার তদন্ত শুরু করব।'

তদন্তের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক চাপ বা সহযোগিতার অভাবের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাবি প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অব্দুল আলিম।

তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা কোনো চাপ বা বাধার মুখোমুখি হইনি। সবশেষ কমিটি কাজ শুরু করতে পারেনি। কারণ তাদের কয়েকজন সদস্য বর্তমানে রাজশাহীর বাইরে।'

'প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় গঠিত কমিটির প্রতিবেদনও খুব শিগগিরই জমা দেওয়া হবে,' বলেন তিনি।