আর্ন প্রকল্পের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ইকোনমিক অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড রিজিলিয়েন্স ফর নিট (আর্ন) প্রকল্পের ১০টি প্যাকেজের আওতায় ৮ বিভাগে সার্ভিস প্রোভাইডার (সেবাদাতা) প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
গত বুধবার এ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সূত্র।
বিশ্বব্যাংকের ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তায় পরিচালিত আর্ন প্রকল্পের লক্ষ্য—বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলের যুবদের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এমন ৯ লাখ যুবক ও যুব নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলা। শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে না থাকা এই জনগোষ্ঠীকে বলা হচ্ছে নিট (নট ইন এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট অর ট্রেনিং)।
প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে এ ধরনের নিষ্ক্রিয় যুব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৈশ্বিক গড় হারের প্রায় দ্বিগুণ। ক্রমবর্ধমান নিষ্ক্রিয় যুব সমাজকে কর্মমুখী করা ও এদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত প্রথম ও একমাত্র উন্নয়ন প্রকল্প হলো আর্ন।
বিশ্বব্যাংকের ক্রয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৮ বিভাগের প্রকল্প এলাকাকে ১০টি প্যাকেজে বিভক্ত করে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। অংশ নেওয়া ৪০১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে সবশেষ ৬৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দাখিল করে। এরপর কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাবের চুড়ান্ত মুল্যায়নের পর ৪টি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খসড়া সমঝোতা চুক্তি করা হয়।
প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশকৃত এবং বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো—ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ ও ঢাকা আহছানিয়া মিশন।
ব্র্যাক কাজ করবে ঢাকা ও রংপুর বিভাগে। সেভ দ্য চিলড্রেন বরিশাল বিভাগ এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায়। তিন পার্বত্য জেলা এবং খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে কাজ করবে কেয়ার বাংলাদেশ। কুমিল্লা, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলা এবং সিলেট বিভাগে ঢাকা আহছানিয়া মিশন।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের জয়েন্ট ভেঞ্চারদের নিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে ৬৪ জেলার ২৫০ উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে ৫ হাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে। এ কেন্দ্রগুলো আট লাখ যুবক ও যুব নারীকে বর্তমান সময়ের চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথ দেখাবে। যা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তোরণের প্রক্রিয়াকে কার্যকরভাবে সহায়তা করবে।