অনিশ্চয়তায় আফগানিস্তানের ক্রিকেট, আতঙ্কিত নবি-রশিদরা

স্পোর্টস ডেস্ক

তালেবান উগ্র গোষ্ঠি আফগানিস্তান দখল করে নেওয়ায় সেদেশে চলছে রক্তপাত, অস্থিরতা। আতঙ্কে ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন মানুষ। দেশের চরম সংকটময় অবস্থায় দূরে থেকে হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে মোহাম্মদ নবি, রশিদ খানদের। এই অবস্থায় ক্রিকেটের নতুন এই শক্তির পথচলা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

রোববার রাজধানী কাবুলেও ঢুকে পড়ে তালেবান যোদ্ধারা। দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি  দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তার সরকারের পতন প্রায় নিশ্চিত। তালেবানরাই ২০ বছর পর দেশটির ক্ষমতা দখল করে চালকের আসনে বসতে চলেছে।

চরম নৃংশসতা, সংকীর্ণতার জন্য পরিচিত তালেবানের এমন দাপটের মাঝে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই পালিয়ে পার্শ্ববর্তী পাকিস্তানে প্রবেশ করছেন। কাবুল বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ দেশ ত্যাগের জন্য ভিড় জমিয়েছেন। সেখানেও চলছে হুড়োহুড়ি, রক্তপাত।

বর্তমান ইংল্যান্ডে 'দ্য হানড্রেড' টুর্নামেন্টে ব্যস্ত আছেন আফগানিস্তানের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দুই তারকা নবি ও রশিদ। দুজনেই টুইটারে নিজেদের প্রতিক্রিয়ায় উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন, 'একজন আফগান হিসেবে আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আফগানিস্তানে এখন নৈরাজ্য চলছে, চরম মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। মানুষজন তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।'

তাদের দেশকে এই অবস্থায় রেখে সরে না যেতে বিশ্ব নেতাদের প্রতিও আকুতি নবির,  'আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে। বিশ্ব নেতাদের আহবান করছি আমাদের এভাবে ছেড়ে যাবেন না। আমাদের সমর্থন দরকার। আমরা শান্তি চাই।'

পাঁচদিন আগে একই আকুতি জানান রশিদও, 'প্রিয় বিশ্বনেতারা, আমাদের দেশে চরম নৈরাজ্য চলমান। প্রতিদিন নারী, শিশুরা শহীদ হচ্ছে। ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে। হাজার হাজার পরিবার ঘরছাড়া। আমাদের এভাবে ছেড়ে যাবেন না। আমরা শান্তি চাই।'

চলমান এই অবস্থায় উদীয়মান এই ক্রিকেট শক্তির পথচলাও শঙ্কায় পড়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর জানা গেছে দেশটির বেশ কয়েকটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম এখন তালেবানদের দখলে।

কান্দাহার, কুন্দুজ ও খোস্তের তিনটি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জড়ো হয়েছে তালেবানরা।  মাজার-ই-শরিফ ও কাবুলের দুটি স্টেডিয়ামও দখল নিতে যাচ্ছে তারা।

আগামী অক্টোবর- নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নেবে আফগানিস্তান। এই সংস্করণে বেশ শক্তিশালী তারা। বছর দুয়েক আগে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর আফগানিস্তানের ক্রিকেট হাঁটতে শুরু করে উন্নতির দিকে। বেরিয়ে আসতে থাকে দারুণ সব প্রতিভা। ফের তালেবান শাসন এলে সকল খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে।