আবাহনীর কাছে পাত্তাই পেল না মোহামেডান

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আবাহনী -মোহামেডান ঐতিহ্যের লড়াই ক্রমশ যেন রঙ হারিয়ে বিবর্ণ। গ্যালারি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও কোন দর্শকই আসেননি মাঠে। কেবল আবাহনীর ক্লাবের কয়েকজন সমর্থক গলা ফাটিয়েছেন পুরোটা সময়। খেলার মাঠেও ছিল না উত্তাপ। মোহাম্মদ হাফিজ, রুবেল মিয়ার ফিফটিতে মোহামেডানের আড়াইশ ছড়ানো পুঁজি যে যথেষ্ট না তা প্রমাণ করে দেন হনুমা বিহারী, জাকের আলি অনিক, মোসাদ্দেক হোসেন, আফিফ হোসেন ধ্রুবরা।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। মোহামেডানের ২৫৫ রান ২২ বল আগেই টপকে যায় আবাহনী। 

দলের জয়ে অবদান বেশ কয়েকজনের। রান তাড়ায় প্রথম সুরটা ধরিয়ে দেন ভারতীয় হনুমা। ৮০ বলে ৫৯ রান করেন তিনি। জাকেরের ব্যাট থেকে আসে ৮৯ বলে ৬০ রান। তবে এই দুজনের মন্থর ব্যাটিং ম্যাচ করে দিয়েছিল কঠিন। ১৩ ওভারে আবাহনীর প্রয়োজন ছিল ৮৫ রান। টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাট করে সেই প্রয়োজন মেটান মোসাদ্দেক-আফিফ। 

অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৩৭ বলে করেন ৫২ রান। পাঁচে নেমে আফিফ ৩৮ বলে ৪৮ করে অপরাজিত থাকেন। এর আগে মোহামেডানকে আটকে রাখতে বল হাতে ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। ব্যাটিংয়ের মতো বল হাতেও উজ্জ্বল ছিলেন আফিফ। ৩৬ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। 

২৫৬ রানের লক্ষ্যে আবাহনীর শুরুটা ভালো হয়নি। নাঈম শেখ ১০ বলে কোন রান না করেই রান আউটে কাটা পড়েন। মুনিম শাহরিয়ার তিন ম্যাচ ড্রপ থাকার পর একাদশে ফিরে শুরুটা করেন আগ্রাসী। তার ২৫ বলে ৩১ রানের ইনিংস শেষ হয় কাভারে নাজমুল ইসলাম অপুর দারুণ ক্যাচে।

তৃতীয় উইকেটে জাকের আলির সঙ্গে গড়ে উঠে হনুমার জুটি। ৯৮ রানের এই জুটিতেই ম্যাচ অনেকটা মুঠোয় চলে আসে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বিহারি ৫৯ করে শিকার হন মোহাম্মদ হাফিজের। আফিফকে নিয়ে পরে এগুতে থাকেন জাকের। ৬০ রান করে শুভাগত হোমের বলে থামে তার ইনিংস।

এরপর আর কোন বিপর্যয় নয়। ৮৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আফিফ-মোসাদ্দেক দ্রুত শেষ করে দেন খেলা। এক সময় সমীরকণে শেষ দিকে রোমাঞ্চের আভাস থাকলেও এই দুজন সেই সুযোগ দেননি প্রতিপক্ষকে। 

সকালে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রনি তালুকদারের ব্যাটে এগুচ্ছিল মোহামেডান। আব্দুল মজিদ তার সঙ্গে তাল মিলাতে না পারলেও রনি ছিলেন সাবলীল। কিন্তু থিতু হয়ে ৩৯ বলে ৩৪ করে থামেন রনি। তিনে নেমে খেলা মন্থর করে দেন পাকিস্তানি হাফিজ। থিতু হতে লেগে যায় তার অনেক সময়।

রুবেল মিয়া কিছুটা চাহিদা মেটাচ্ছিলেন। এই দুজনের জুটিতে আসে ১১৫ রান। ১০১ বলে ৬ বাউন্ডারি ২ ছক্কায় ৭০ করে থামে হাফিজের ইনিংস। রুবেল করেন ৬৫ বলে ৫১। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নেমে প্রায় শেষ পর্যন্তই ক্রিজে ছিলেন। তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত ঝড় আসেনি। ৩৭ বলে ৪ চারে তিনি করেন ৪২। অধিনায়ক শুভাগত ঝড়ের আভাস দিলেও ৯ বলে ১৪ করে থামেন তিনি। 

মোহামেডান পায়নি চ্যালেঞ্জিং পুঁজি। রান তাড়ায় সমস্যায় পড়তে হয়নি আবাহনীকে। এই জয়ে ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আবাহনী। সমান ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে আটে মোহামেডান।