আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে জিতল ব্রাদার্স
দারুণ এক জয়ে এবার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ শুরু করেছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। কিন্তু এরপর যেন জিততেই ভুলে গিয়েছিল তারা। টানা পাঁচটি ম্যাচে হারে তারা। এরমধ্যে কয়েকটি ম্যাচে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হারতে হয়েছে তাদের। তবে অবশেষে গেঁড়ো খুলেছে তাদের। অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের লিস্ট-এ ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে আসরে দ্বিতীয় জয় পেয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার সাভারের বিকেএপির তিন নম্বর মাঠে নবাগত রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ৩৬ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৩০৯ রান করে ব্রাদার্স। জবাবে ১৪ বল বাকি থাকতে ২৭৩ রানে অলআউট হয়ে যায় রূপগঞ্জ টাইগার্স।
এদিন ওপেন করতে নেমে আর আউটই হননি আশরাফুল। লিস্ট-এ ক্রিকেটে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস ১৩৯ বলে করেন অপরাজিত ১৪১ রান। নিজের ইনিংসটি সাজাতে ১৬টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান অধিনায়ক। লিস্ট-এ ক্রিকেটে এর আগে তার সর্বোচ্চ ছিল ১২৭ রান।
এদিন আশরাফুলের পাশাপাশি রান পান মাইশুকুর রহমান খেলেন দারুণ এক ইনিংস। ৯২ বলে করেন ৬৮ রান। শ্রীলঙ্কান চতুরঙ্গ ডি সিলভা নেমে তুলেন ঝড়। ২৫ বলে ৫১ করে তিনশো ছাড়ানোর কাজটা করেন তিনিই। ফলে বড় পুঁজিই পায় ব্রাদার্স।
শুরুতেই ইমতিয়াজ হোসেন তান্নার উইকেট হারানো দলটি দ্বিতীয় উইকেটে ১৫০ রানের জুটি পায় আশরাফুল ও মাইশুকুরের সৌজন্যে। এরপর মিনহাজুল আবেদিনের সঙ্গে ৮০ রান এবং চতুরঙ্গর সঙ্গে ৬৮ রানের জুটি গড়েন আশরাফুল।
তৃতীয় উইকেটে মিনহাজুল আবেদিন সাব্বিরের সঙ্গে ৮০ রানের আরেক জুটি পান আশরাফুল। পরে চতুরঙ্গের সঙ্গে বিস্ফোরক জুটিতেই তেজ পায় তারা। ৩৮ বলে এই জুটিতে আসে ৬৮ রান। যার পুরোটাই মূলত চতুরঙ্গের কারণে। আশরাফুল শেষ পর্যন্ত আর আউটই হননি। ১৬ চার, ১ ছক্কায় ১৪১ করে অপরাজিত থেকে যান তিনি।
লক্ষ্য তাড়ায় দলীয় ১৩ রানেই মিজানুর রহমানের উইকেট হারায় রূপগঞ্জ। এরপর জাকির হাসানকে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়েন অপরাজিথ বাবা। তবে তৃতীয় উইকেটে মার্শাল আইয়ুবের সঙ্গে ১১০ রানের জুটি গড়ে লড়াই জমিয়ে দিয়েছিলেন ফজলে মাহমুদ রাব্বি। কিন্তু এ জুটি ভাঙতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। ৩৬ রান দূরেই থামে তারা।
লিস্ট-এ ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০০ রান করেন ফজলে রাব্বি। ১০০ বলে সমান ৪টি করে চার ও ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ৫৪ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৫৮ রান করেন মার্শাল। এছাড়া বাবা ৩৪ ও জাকির ৩৩ রান করেন। ব্রাদার্সের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন আবু হায়দার রনি, চতুরঙ্গ, সাকলাইন সজিব ও মানিক খান