এক দিন হাতে রেখেই ইনিংস ব্যবধানে জিতল চট্টগ্রাম
জাতীয় লিগের চলতি আসরে মাত্র দুই দিনে হারের স্বাদ পেয়েছিল চট্টগ্রাম। তবে ব্যর্থতার বৃত্ত ঝেড়ে ফেলে বরিশালের বিপক্ষে অসাধারণ জয় তুলে নিয়েছে তারা। এক দিন হাতে রেখেই ইনিংস ও ৭৩ রানের জয় পেয়েছে দলটি। চলতি আসরে এটা তাদের দ্বিতীয় জয়। তাতে প্রথম টায়ারে ফেরার সম্ভাবনা জোরালো করল বন্দর নগরীর দলটি।
সাভারের বিকেএসপিতে আগের দিনের ৪ উইকেটে ৩৬৪ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা চট্টগ্রাম এদিন শেষ ছয় উইকেট হারিয়ে আর ৭৯ রান যোগ করে। ফলে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪৪৩ রানে অলআউট হয় চট্টগ্রাম। প্রথম ইনিংসে লিড পায় ২০৭ রানের।
এদিন ইনিংস লম্বা করতে পারেননি কেউ। আগের দিন ৬৩ রানে অপরাজিত থাকা সাহাদাত শেষ পর্যন্ত খেলেন ৭৫ রানের ইনিংস। ইরফান শুক্কুর ও নাঈম হাসান দুই জনের ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান করে। বরিশালের পক্ষে ৪টি উইকেট পান মনির হোসেন। ২টি করে উইকেট পান রুয়েল মিয়া ও সোহাগ গাজী।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বরিশাল। বলার মতো কোনো জুটিই হয়নি। এমনকি কোনো ব্যাটারও ব্যক্তিগতভাবে লড়াই করতে পারেননি। সর্বোচ্চ ২৫ রান আসে গাজীর ব্যাট থেকে। চট্টগ্রামের হয়ে ১০ রানের খরচায় ৪টি উইকেট পান নাঈম। মেহেদী হাসান ৩টি ও মেহেদী হাসান রানা ২টি উইকেট পান।
দ্বিতীয় টায়ারের অপর ম্যাচে ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে ৭৫ রানে গিয়ে আছে রাজশাহী বিভাগ। আগের দিন ৬ উইকেটে ৩৫৩ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা ঢাকা মেট্রো এদিন শেষ চার উইকেট হারিয়ে আর ৪৫ রান যোগ করতে পারে। আমিনুল ইসলাম খেলেন ৮২ রানের ইনিংস। আবু হায়দারের ব্যাট থেকে আসে ৫৯ রান। রাজশাহীর সানজামুল ইসলাম নেন ৪টি উইকেট।
নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরিতে লিড পায় রাজশাহী। ১৭১ বলে ১৪৫ রানের ইনিংস খেলেন এ ওপেনার। ১৫টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজান নিজের ইনিংস। এছাড়া জুনায়েদ সিদ্দিকি ৫৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত দিন শেষে ৪ উইকেটে ২৪১ রান তুলেছে তারা।
সিলেটে খুলনা বিভাগ ও রংপুর বিভাগের ম্যাচটি শেষ দিনের রোমাঞ্চকর পরিণতির অপেক্ষায় রয়েছে। জিততে হলে ১৯৫ রান করতে হবে রংপুরকে। অন্যদিকে খুলনার চাই ৯ উইকেট। আগের দিনের ১ উইকেটে ২১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা খুলনা এদিন ২১২ রানে অলআউট হয়ে যায়। অমিত মজুমদার ৫৫, মেহেদী হাসান মিরাজ ৫৪ ও নাহিদুল ইসলাম ৪১ রান করেন। রংপুরের পক্ষে ৪টি উইকেট পান নাসির হোসেন। ৩টি করে উইকেট নেন আলাউদ্দিন বাবু ও সোহরাওয়ার্দি শুভ।
২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১ উইকেটে ৫৩ রান তুলে দিন শেষ করেছে রংপুর। মাইশুকুর রহমান ১৯ ও তানবির হায়দার ২৩ রানে ব্যাট করছেন।
প্রথম টায়ারের অপর ম্যাচে সিলেটে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৯২ রানে এগিয়ে আছে ঢাকা বিভাগ। আগের দিনের ১ উইকেটে ২২ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে এদিনের শুরুতেই জয়রাজ শেখকে হারায় ঢাকা। এরপর তৃতীয় উইকেটে আব্দুল মজিদের সঙ্গে ৯৯ রানের ইনিংস খেলেন রকিবুল হাসান। তবে এ জুটি ভাঙতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। ৮ উইকেটে ২৩৪ রানে দিন শেষ করে দলটি।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন মজিদ। রকিবুলের ব্যাট থেকে আসে ৫ রান। নাজমুল ইসলাম ১৯ ও এনামুল হক ১ রানে উইকেটে আছেন। সিলেটের পক্ষে ৬৯ রানের খরচায় ৩টি উইকেট পান নাসুম আহমেদ। ২টি শিকার ইবাদত হোসেনের।