এনগিডি-রাবাদার তোপের পর শামির নৈপুণ্যেে ভারতের লিড
লুঙ্গি এনগিডি ও কাগিসো রাবাদার তোপে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ ৭ উইকেট তারা হারাল মাত্র ৪৯ রানে। প্রতিপক্ষকে রানের পাহাড়ে চড়তে না দেওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকাও পড়ল ব্যাটিং বিপর্যয়ে। মোহাম্মদ শামির নৈপুণ্যে বড় লিড পেল সফরকারীরা।
সেঞ্চুরিয়নে সিরিজের প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ভারত রয়েছে চালকের আসনে। তারা এগিয়ে আছে ১৪৬ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ উইকেটে ১ উইকেটে ১৬ রান। ক্রিজে আছেন লোকেশ রাহুল ৫ ও নাইটওয়াচম্যান শার্দুল ঠাকুর ৪ রানে। মার্কো ইয়ানসেনের করা দিনের শেষ ওভারে ৪ রান করে বিদায় নেন মায়াঙ্ক আগারওয়াল।
প্রথম ইনিংসে স্বাগতিক প্রোটিয়ারা থামে ১৯৭ রানে। তাদেরকে গুঁড়িয়ে দিতে শামি ৫ উইকেট নেন ৪৪ রানে। এর আগে বিরাট কোহলির দল প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ৩২৭ রানে। তারা পায় ১৩০ রানের লিড।
বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় দিনে একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। প্রথম দিনের ৩ উইকেটে ২৭২ রান নিয়ে খেলতে নামে ভারত। কিন্তু শুরু থেকেই টপাটপ উইকেট খোয়াতে থাকে তারা। মাত্র ১৫.৩ ওভার টেকে তাদের ইনিংস।
দিনের চতুর্থ ওভারে রাহুলকে বিদায় করেন রাবাদা। অ্যাঙ্গেল হয়ে লেগ সাইডে যাওয়া শর্ট বলে উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি ককের গ্লাভসবন্দি হন তিনি। থামে ১৭ চার ও ১ ছয়ে সাজানো তার ২৬০ বলে ১২৩ রানের দারুণ ইনিংসটি। আজিঙ্কা রাহানের সঙ্গে তার ৭৯ রানের এই জুটি ভাঙার পর মড়ক লাগে ভারতের ইনিংসে।
৯৭ থেকে ১০১, এই পাঁচ ওভারের প্রতিটিতে একটি করে উইকেট আদায় করে নেয় প্রোটিয়ারা। ১০২ বলে ৪৮ রান করা রাহানে পরাস্ত হন এনগিডির বাড়তি বাউন্সে। তার ক্যাচটিও নেন ডি কক। রবিচন্দ্রন অশ্বিন রাবাদার শিকার হওয়ার পর রিশভ পান্তকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূরণ করেন এনগিডি। প্রথম দিনে তিনি নিয়েছিলেন ৩ উইকেট।
রাবাদার বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ডি ককের হাতে ধরা পড়েন শার্দুল। শামি আগ্রাসী শট খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হন এনগিডির বলে। ইনিংসে নিজের চতুর্থ ক্যাচ নেন ডি কক।
জাসপ্রিত বুমরাহকে ফিরিয়ে টেস্টে প্রথম উইকেটের দেখা পান অভিষিক্ত বাঁহাতি পেসার ইয়ানসেন। ভারতের শেষ ছয় ব্যাটারের মধ্যে বুমরাহই কেবল পৌঁছান দুই অঙ্কে। তিনি ১৭ বলে করেন ১৪ রান।
এনগিডি ৭১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে সফল বোলার। আরেক ডানহাতি পেসার রাবাদা ৩ উইকেট নেন ৭২ রানে। ১ উইকেট নিতে ইয়ানসেনের খরচা ৬৯ রান।
জবাব দিতে নেমে মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই সাজঘরে হাঁটা দেন অধিনায়ক ডিন এলগার। বুমরাহর বলে পান্তের গ্লাভসে জমা পড়ে তার ক্যাচ। খেলা ফের শুরু হলে জ্বলে ওঠেন শামি। তাতে দলীয় ৩২ রানে ৪ উইকেট খোয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
বল ব্যাটে লেগে স্টাম্প উপড়ে যায় কিগান পিটারসেনের। সামান্য বাইরে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে বোল্ড হন এইডেন মার্করাম। মোহাম্মদ সিরাজের বলে গালিতে ধরা পড়েন রাসি ভ্যান ডার ডাসেন।
বিপদের সময়ে দলের হাল ধরেন টেম্বা বাভুমা ও ডি কক। চতুর্থ উইকেটে তারা যোগ করেন ৭২ রান। তবে চা বিরতির কিছু আগে ভাঙে তাদের প্রতিরোধ লড়াই। শার্দুলের বল থার্ড ম্যানে ঠেলতে গিয়ে ইনসাইড এজে স্টাম্প হারান ডি কক। ৬৩ বলে ৩৪ রান করেন তিনি।
শেষ সেশনে বাকি ৫ উইকেট খোয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ভিয়ান মুল্ডারের পর বাভুমাকেও পান্তের ক্যাচ বানান শামি। বাভুমা ফেরেন ১০৩ বলে ১০ চারের সাহায্যে ৫২ রান করে। তার বিদায়ে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের লিড পাওয়া।
এরপর ইয়ানসেন ও রাবাদা মিলে দুইশর কাছাকাছি নিয়ে যান দলের ইনিংস। ৪৫ বলে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন রাবাদা। তাকে ঝুলিতে পুরে ৫ উইকেট পূরণ করেন শামি। কেশব মহারাজ বুমরাহর শিকার হলে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। বুমরাহ ১৬ রানে ও শার্দুল ৫১ রানে ২টি করে উইকেট নেন।