ওভারে ছয় ছক্কায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার ছুঁয়ে ফেললেন গিবসকে
ইনিংসের শেষ ওভার। পাপুয়া নিউগিনির গাউডি টোকার ওপর তাণ্ডব চালালেন আগেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফেলা যুক্তরাষ্ট্রের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জাসকারান মালহোত্রা। ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওভারে ছয় ছক্কা মারার কীর্তি গড়ে তিনি বসলেন হার্শেল গিবসের পাশে।
বৃহস্পতিবার ওমানের আল আমিরাত ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্র ও পাপুয়া নিউগিনির মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখান জাসকারান। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার অপরাজিত থাকেন ১২৪ বলে ১৭৩ রানে। তার বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৪ চার ও ১৬ ছক্কা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা গিবস। ২০০৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের ড্যান ভ্যান বাঙ্গে নাস্তানাবুদ হয়েছিলেন তার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে।
ওই ঘটনার ১৮ বছর পর ওয়ানডেতে দ্বিতীয়বারের মতো ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকান জাসকারান। আরও বেশ কিছু রেকর্ডে জুড়ে গেছে চণ্ডীগড়ে জন্ম নেওয়া ক্রিকেটারের নাম। এই সংস্করণে পাঁচ নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের মালিক এখন জাসকারান। তিনি পেছনে ফেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক সাবেক তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্সকে। ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৬২ রানের স্মরণীয় ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার নজিরও গড়েন জাসকারান। তার উপরে আছেন কেবল ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটের অধিনায়ক ওয়েন মরগ্যান।
জাসকারানের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৩৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৭১ রান তুলেছিল তারা। জবাবে ৩৭.১ ওভারে পাপুয়া নিউগিনি গুটিয়ে যায় কেবল ১৩৭ রানে।
৪৯তম ওভার শেষে জাসকারানের সংগ্রহ ১১৮ বলে ১৩৭ রান। এরপর একে একে ছক্কা মারেন তিনি। মিডিয়াম পেসার টোকার ওভারের শেষ ডেলিভারি ছিল ফুল টস। মিডউইকেটের উপর দিয়ে বল সীমানার বাইরে পাঠিয়ে গিবসকে ছুঁয়ে ফেলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওভারে ছয় ছক্কার কীর্তি আছে আরও দুটি, দুটিই টি-টোয়েন্টিতে। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রডের ওভারে ভারতের যুবরাজ সিং ও চলতি বছর শ্রীলঙ্কার আকিলা দনঞ্জয়ার ওভারে উইন্ডিজের কিয়েরন পোলার্ড ছয় ছক্কা মেরেছিলেন। টেস্টে এমন কোনো ঘটনা এখনও ঘটেনি।