ডাক্তার আমাকে ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যেতে বলেছে: পাপন
আর কিছুদিন পরই আগামী নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির এ নির্বাচন শেষে ফের নাজমুল হাসান পাপনকে সভাপতির দায়িত্বে নাও দেখা যেতে পারে। বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শেষে এমন কিছুরই ইঙ্গিত দিয়েছেন বর্তমান সভাপতি।
বিসিবির সভাপতি হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেটে বেশ সরব উপস্থিতি পাপনের। দল নির্বাচন হতে শুরু করে একাদশ বাছাইতেও হাত রয়েছে তার। এমনকি টস জিতলে কি নিতে হবে এমন সিদ্ধান্তও দিয়ে থাকনে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সেই তাকেই হয়তো আগামীতে আর বিসিবির মূল দায়িত্বে নাও দেখা যেতে পারে।
মূলত চিকিৎসকদের পরামর্শের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানান পাপন। বৃহস্পতিবার বিসিবির এজিএম শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'আমার একটা খারাপ দিক হচ্ছে হারলে হারটা আমি মেনে নিতে পারি না। বাংলাদেশ হারলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। আমার বৌ-বাচ্চা সামনে আসে না। ডাক্তার আমাকে বারবার বলেছে ক্রিকেট থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দূরে সরে যেতে।'
ক্রিকেটে পাপন কীভাবে সম্পৃক্ত থাকেন তাও ব্যাখ্যা করেন পাপন, 'ক্রিকেটে অনেক সময় নিয়ে নিচ্ছে। আমাদের বোর্ড থেকে জালাল ভাই গেল নিউজিল্যান্ড, ববি ভাই গেল জিম্বাবুয়ে। উনারা জানেন, উনারা অবাক হয়ে গেছেন। ভোর থেকে তো খেলা দেখেছিই, ওনাদের ওখানে ৭টা বাজলে ফোন দিয়েছি, ব্রেকফাস্টের আগে সবার সাথে কথা বলা, তারপর দল নিয়ে কথা বলা। আসলে ক্রিকেট ইজ টেকিং টু মাচ টাইম।'
শেষপর্যন্ত সভাপতি থাকবেন কি-না তা খোলাসা করে না বললেও আগামী নির্বাচনে যে নিশ্চিতভাবে কিছু পরিবর্তন আসছে তা জানান বিসিবি সভাপতি, 'আসলে এবার বোর্ড মিটিংয়ে ১ তারিখ বা ২ তারিখ যখনই হয়, সেদিন একটু ধারণা পাবেন আপনারা নির্বাচন নিয়ে, এটাতে কোনো সন্দেহ নেই। এবারের নির্বাচন একটু আলাদা হবে। অন্যান্যবারের মতো নাও হতে পারে। আশা করি এটা গ্রহণযোগ্য হবে, যেমনটা আমি প্রস্তাব করেছি।'
তবে এবারই প্রথম নয়, চার বছর আগেও প্রায় একই কথা বলেছিলেন পাপন। সেবার নির্বাচনের আগে ফের সভাপতি নাও হতে পারেন এমন কথা বলেও শেষ পর্যন্ত দায়িত্বে থেকেছেন তিনিই। তাই এবারও এমন কিছু হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকছে না।