নিজেই চমকে গিয়েছিলেন কামিন্স

স্পোর্টস ডেস্ক

কী কাণ্ডটাই না করে এলেন, তা টের পেতে প্যাট কামিন্সের নিজেরই লাগল খানিকটা সময়। হয়ত চিমটি কেটে দেখলেন আসলেই সব বাস্তব কিনা? ক্রিজে যাওয়ার পর যে সমীকরণ ছিল ভীষণ কঠিন, তা মেলালেন অনেকটা তুড়ি মেরে। স্পর্শ করলেন দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। ম্যাচ শেষে জানালেন এমন তাণ্ডবে সম্ভবত সবচেয়ে অবাক তিনি নিজে। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক রোহিত শর্মার চোখে-মুখেও কেবলই অবিশ্বাস্য।

কামিন্সের মূল কাজটা বোলিং। ব্যাট হাতেও যে মাঝে মাঝে অবদান রাখতে পারেন তার প্রমাণ আগেও দিয়েছেন। তাই বলতে এতটা আশা করেনি কেউ। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ১৬২ রান তাড়ায় এক পর্যায়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের  ৪১ বলে ৬১ লাগত। ওই সময়ে নেমে ১৪ বলে আইপিএলের দ্রুততম ফিফটি স্পর্শ করেন। ১৫ বলে ৪ বাউন্ডারি, ৬ ছক্কায় ৫৬ রান করে দলকে জিতিয়ে দেন ২৪ বল আগে।

যেখানে ম্যাচ জেতাই ছিল কঠিন, সেখানে ২৪ বল আগে জিতে যাওয়া। ১৬তম ওভারে ৩৫ রান নিয়ে ম্যাচ শেষ করা। সব কিছু যেন অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কামিন্স জানালেন এমন কিছু হবে তার ভাবনাতেও ছিল না, তিনি কেবল পরিকল্পনা করেছিলেন নিজের জোনে পেলেই পেটাবেন, 'সম্ভবত আমিই সবচেয়ে অবাক হয়েছি এই ইনিংসে। আমি খুশি যে এটা হয়েছে। আমি ভেবেছিলাম আমার আয়ত্তের মধ্যে থাকলে মারার চেষ্টা করব। বাড়তি কিছুই ভাবিনি। '

'মৌসুমে প্রথম ম্যাচে এমন কিছু করতে পারা ভীষণ সন্তুষ্টির। ছোট বাউন্ডারির সুবিধাটা নিতে চেয়েছিলাম। মেগা নিলামের পর গত বছরের অনেক কিছু বদলে গেছে। দলে অভিজ্ঞতা ও প্রতিভার সমন্বয় হয়েছে।'

ড্যানিয়েল স্যামসের ১৬তম ওভারে খেলা শেষ হয়ে যাওয়ায় চোখেমুখে অবিশ্বাস আর হতাশা নিয়ে মুখ লুকাচ্ছিলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক রোহিত। তিন ম্যাচে টানা তিন হারের ধাক্কা এভাবে আসবে ভাবনাতেও ছিল না তার। সেটাই জানালেন ম্যাচ শেষে,  'চিন্তাও করিনি, সে এমন খেলবে। অনেক বাহবা দিতে হয় তাকে। ১৫ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ আমাদের দিকেই ছিল, মনে হচ্ছিল ওদের কব্জা করে ফেলতে পারব। কিন্তু কামিন্স যেভাবে খেলে দিল…এটা হজম করা কঠিন। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে।'