ব্যক্তিগত অর্জনগুলো আরও ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করে সাকিবকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অপেক্ষা ছিল ২ উইকেটের। সাকিব আল হাসান নিলেন ৪ উইকেট। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তিনি গড়লেন এক হাজার রান ও ১০০ উইকেটের ডাবল। অনন্য এই কীর্তির পর বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার জানালেন, ব্যক্তিগত এসব অর্জন তাকে দলের হয়ে আরও ভালো খেলতে প্রেরণা যোগায়।

সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে তারা অস্ট্রেলিয়াকে দিয়েছে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার তিক্ত স্বাদ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের তোলা ৯ উইকেটে ১২২ রানের জবাবে অজিরা ১৩.৪ ওভারে থেমে যায় কেবল ৬২ রানে।

প্রথম তিন ম্যাচে টানা জেতায় সিরিজ আগেই নিজেদের করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে অজিদের ৬০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে তারা সিরিজ জিতেছে ৪-১ ব্যবধানে। টি-টোয়েন্টিতে রানের হিসাবে নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান বাঁহাতি সাকিবের। ৩.৪ ওভারে একটি মেডেনসহ মাত্র ৯ রানে ৪ উইকেট দখল করেন তিনি।

টি-টোয়েন্টিতে হাজার রান সাকিব ছাড়িয়ে গেছেন অনেক আগে। অজি দলনেতা ম্যাথু ওয়েডকে বোল্ড করার পর ইনিংসের দ্বাদশ ওভারে তিনি পান এই সংস্করণে শততম উইকেটের দেখা। তার টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে শর্ট কভারে অ্যাশটন টার্নার ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহর হাতে। সাকিবের পরের ওভারে নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা সাজঘরে ফিরে গেলে ৩৮ বল বাকি থাকতে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।

আরেক দফা দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরার দুটি পুরস্কারই ঝুলিতে নেওয়ার পর সাকিব জানান, 'যখন এরকম কোনো অর্জন হয়, অবশ্যই ভালো লাগে। ব্যক্তিগত অর্জনগুলো দলের পক্ষে আরও ভালো খেলার জন্য অনুপ্রাণিত করে।' 

সিরিজে ব্যাট হাতে ১১৪ রান ও বল হাতে ৭ উইকেট নেওয়া সাকিবের মতে, সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতাতেই তার এতদূর আসা, 'এখন পর্যন্ত যতজন সতীর্থের সঙ্গে খেলেছি, তাদের সহযোগিতা না পেলে এটা কিছুতেই সম্ভব হতো না। তাদের সহযোগিতা, কোচিং স্টাফদের সহযোগিতা, দর্শকদের সহযোগিতা, সবার সহযোগিতাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।'

রেকর্ড গড়ে রোমাঞ্চিত সাকিব আগামীতেও একইভাবে বাংলাদেশের হয়ে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, 'খুবই খুশি। আমার মনে হয়, আমি আরও অনেক দিন অবদান রাখতে পারব এবং সেই চেষ্টাই থাকবে।'