ব্যাটসম্যানদের এই সিরিজ দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না: সাকিব 

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে রান না আসায় খেদ আছে অনেকের। কেউ কেউ রান পেলেও খেলেছেন মন্থর গতিতে। বিশেষ করে রান না পাওয়ায় সৌম্য সরকারকে নিয়ে হচ্ছে অনেক সমালোচনা। তবে সাকিব আল হাসান বলছেন, দুরূহ উইকেট হওয়ায় এই সিরিজ দিয়ে কাউকেই বিচার করা ঠিক হবে না।

মন্থর ও টার্নিং উইকেট হওয়ায় এই সিরিজের কোন ম্যাচেই আসেনি বড় রান। দুই দল মিলিয়েই সর্বোচ্চ স্কোর ১৩১। বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে ওই রান করে অনায়াসে জিতেছে। পরের ম্যাচেও অজিদের ১২১ রান তাড়া করে জেতে সহজেই।

তৃতীয় ম্যাচে ১২৭ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে ১০ রানে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে। চতুর্থ ম্যাচে মাত্র ১০৪ রান করে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারে ৩ উইকেটে। শেষ ম্যাচেও আসেনি বড় রান। বাংলাদেশ ১২২ রান করেও অবশ্য ৬০ রানের বড় জয় পেয়েছে। অজিদের গুটিয়ে দেয় তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৬২ রানে।

এই সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সাকিবের। ৫ ম্যাচে ১০০.৮৮ স্ট্রাইকরেটে করেন ১১৪, আফিফ ৫ ম্যাচে করেছেন ১০৯। বাকি সবার থেকে তিনি আলাদা কারণ তার স্ট্রাইকরেটই ছিল সবচেয়ে বেশি – ১২২.৪৭। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ দলের একমাত্র ফিফটির পরও ৯৬.৮০ স্ট্রাইকরেটে করেন ৯১ রান। নাঈম শেখ ৫ ম্যাচে কেবল ৮৮.৩৪ স্ট্রাইকরেটে করেন ৯১ রান। সৌম্য ছিলেন একবারে ব্যর্থ।  প্রথম চার ম্যাচেই থিতু হওয়ার আগে উইকেট বিলিয়ে দেন। পঞ্চম ম্যাচে চারে নেমে ছন্দ পেয়েছিলেন। কিন্তু এক ছয়, এক চারে ১৬ রানে থামেন। আগের সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান ও চলতি বছর টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রান করা সৌম্য এই সিরিজে করেন মাত্র ২৮ রান।

বোলারদের দারুণ সাফল্যের মাঝে ব্যাটসম্যানদের এমন চিত্র হতাশার হওয়ারই কথা। কিন্তু সাকিব বলছেন উইকেট ভীষণ দুরূহ হওয়ায় ব্যাট করা ছিল খুব কঠিন। ব্যাটসম্যানদের তাই এই সিরিজ দিয়ে বিচার না করতে বললেন তিনি,  'সন্তুষ্টি আছে। হয়তো আমরা প্রতি ম্যাচেই আরও ১০-১৫ রান করে বেশি করতে পারতাম। একেকটা সময় ছিল, যেখানে এটা সম্ভব ছিল। কিন্তু সেটার পরেও উইকেটগুলো এতটাই কঠিন ছিল যে, নতুন ব্যাটসম্যানের জন্য সবসময়ই সমস্যার ছিল। ব্যাটসম্যানদের নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার কিছু নেই। একটা সিরিজ দিয়ে কাউকে বিচার করাও ঠিক হবে না। কারণ, কন্ডিশন খুবই কঠিন ছিল ব্যাটসম্যানদের জন্য।'

ব্যাটিংয়ে খামতি থাকলেও সহায়ক কন্ডিশন থাকায় বোলিং ছিল দারুণ। বিশ্বকাপ পর্যন্ত তা ধরে রাখার আশা সিরিজে ৭ উইকেট নেওয়া সাকিবের,  'সবমিলিয়ে প্রতিটা ম্যাচেই আমরা বোলিং খুব ভালো করেছি। আমার মনে হয়, পুরো পাঁচটা ম্যাচে আমাদের বোলিংয়ের যে ধারাবাহিকতা ছিল, আমরা যদি সেটা ধরে রাখতে পারি বিশ্বকাপ পর্যন্ত, আমাদের পক্ষ ভালো কিছু করা সম্ভব।'