মাশরাফির ৪ উইকেট, চিরাগের অলরাউন্ড নৈপুণ্য

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় দাঁড়িয়েও বল হাতে কিছু ঝলক দেখাচ্ছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতিকে দুশোর নিচে আটকাতে বড় ভূমিকা নিলেন তিনি। তার সঙ্গে বল হাতে তাল মিলিয়ে উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও জ্বলে উঠলেন ভারতীয় চিরাগ জানি। জিতল তাদের দল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।  

মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের লো স্কোরিং ম্যাচ শেষ পর্যন্ত লড়াই হয় সমানে-সমান। তাতে খেলাঘরকে ২  উইকেটে হারিয়েছে রূপগঞ্জ। খেলাঘরের ১৯৮ রান মাত্র ৩ বল আগে পেরিয়ে জিতেছে মাশরাফির দল।

দলের জয়ে মুখ্য ভূমিকা চিরাগের। বোলিংয়ে ৫১ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৭৮ বলে ৭২ রান করেন তিনি। রূপগঞ্জের সবচেয়ে সফল বোলার অবশ্য মাশরাফি। ৮ ওভার বল করে ৩৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।

১৯৯ রানের লক্ষ্যে শুরুটা খারাপ হয় রূপগঞ্জের। দুই ওপেনার ইরফান শুক্কুর ও সাব্বির হোসেন ফেরেন ১৫ রানের মধ্যেই। এরপর চিরাগের সঙ্গে জুটি পান ছন্দে থাকা নাঈম ইসলাম।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৯০ রান। নাঈম মন্থর থাকলেও ইতিবাচক অ্যাপ্রোচে ব্যাট করে রান তাড়া সহজ করে দিয়ে যান চিরাগ। ৭৮ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় ৭২ করে থামেন এই ভারতীয়।

অনেকটা সময় নিয়ে থিতু হয়েও নাঈম এদিন পারেননি। এবারের লিগে এই প্রথম পঞ্চাশের আগে ফেরেন তিনি। ৬১ বলে ২৪ রান করে সালমান হোসেনের বলে বোল্ড হন এই ডানহাতি।

এরপর রকিবুল হাসান নয়ন, সাব্বির রহমান রুম্মানকে দ্রুত হারায় রূপগঞ্জ। সাতে নামা তানভীর হায়দার হাল ধরে দলকে নিয়ে যান জেতার জায়গায়। তার সঙ্গে  ২১ রানের জুটিতে অবদান মাশরাফির। ১২ রান করে মাশরাফি ফেরার পর দ্রুত বিদায় নেন আসিফ হাসান। শেষ বেলায় জমে উঠেছিল ম্যাচ। কিন্তু তানভীরের ৬১ বলে অপরাজিত ৫১ রানে তীরে তরি ভেড়ায় তারা।

সকালে টস জিতে খেলাঘরকে ব্যাট করতে পাঠিয়ে চেপে ধরেন মাশরাফিরা। শ্রীলঙ্কান উপুল থারাঙ্গা আউট হন ৩ রান করেই। এরপর হাসানুজ্জামান, অমিত মজুমদারদের ব্যাটে এগিয়েছে খেলাঘর। ২৯ করা হাসানুজ্জামনকে ফিরিয়ে প্রথম শিকার ধরেন মাশরাফি।

তৃতীয় উইকেটে দুই অমিতের জুটি জমে উঠছিল। অমিত মুজমদারকে সঙ্গে দিচ্ছিলেন অমিত হাসান। ৪৪ যোগ করার পর হাসানকে থামিয়ে দেন চিরাগ।  সালমান হোসেন থিতু হওয়ার আগেই বোল্ড হন চিরাগের বলে। ফিফটি পেরিয়ে মজুমদার থামেন নাঈমের অফ স্পিনে।

অধিনায়ক নাদিফ চৌধুরী থিতু হয়ে ফেরেন চিরাগের বলে। থিতু হয়ে মাশরাফির শিকার হন মাসুম খান টুটুলও। মাশরাফি পরে ইফতেখার সাজ্জাদ, নূর আলম সাদ্দামকে ছেঁটে মুড়ে দেন খেলাঘরের ইনিংস। দুশোর ভেতর প্রতিপক্ষকে আটকালেও ম্যাচ জিততে কঠিন পরিস্থিতি পার করতে হয় রূপগঞ্জকে।

এই জয়ে ৭ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে থাকল রূপগঞ্জ। খেলাঘর ৮ ম্যাচে কেবল ১ জয় নিয়ে আছে টেবিলে সবার নিচে।

শাইনপুকুরকে হারাল সিটি ক্লাব

বিকেএসপিতে দিনের আরেক ম্যাচে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে ৪ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে দীর্ঘদিন পর প্রিমিয়ার লিগে আসা সিটি ক্লাব। আগে ব্যাটিং বেছে সিটি ক্লাবের সম্মিলিত আক্রমণে মাত্র ১৭৫ রানে গুটিয়ে যায় শাইনপুকুর। জবাবে শাহরিয়ার কমলের ৫৫, জাকিরুল আলম জেমের ৪৬ ও আশিক উল আলম নাঈমের ৪৪ রানে ৫৮ বল আগেই ম্যাচ শেষ করে দেয় সিটি ক্লাব।