মাহমুদুলের সেঞ্চুরি, হাতছাড়া মুমিনুলের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় দিনে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে অসাধারণ এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের মাহমুদুল হাসান জয়। তবে দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিনায়ক মুমিনুল হক।

বিকেএসপির ব্যাটিং স্বর্গে দ্বিতীয় দিন শেষে ১২৮ রানে এগিয়ে আছে চট্টগ্রাম। ৪ উইকেটে ৩৬৪ রান তুলে দিন শেষ করেছে দলটি। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায় বরিশাল।

আগের দিনের বিনা উইকেটে ৩৪ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা চট্টগ্রাম এদিন শুরুতেই পিনাক ঘোষকে হারায়। তবে এর পরের ব্যাটাররা বেশ সাবলীল ব্যাট করতে থাকেন। দ্বিতীয় উইকেটে জসিমউদ্দিনের সঙ্গে ৮৫ রানের, তৃতীয় উইকেটে মুমিনুলের সঙ্গে ১১২ রানের ও চতুর্থ উইকেটে শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে ৮৩ রানের তিনটি দারুণ জুটি গড়েন মাহমুদুল। তাতেই বড় লিড পেয়ে যায় দলটি।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২১ রানের ইনিংস খেলেন মাহমুদুল। ২১১ বলে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করে ৮৫ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৮১ রান করেন মুমিনুল। ৬৩ রানে অপরাজিত আছেন শাহাদাত। তার সঙ্গে ইরফান শুক্কুর ২৩ রানে ব্যাট করছেন। এছাড়া জসিমউদ্দিন ৪৯ রান করেন। বরিশালের হয়ে ২টি উইকেট নিয়েছেন মনির হোসেন।

বিকেএসপির অপর মাঠে রাজশাহী বিভাগের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে ১২১ রানের লিড পেয়েছে ঢাকা মেট্রো। ৬ উইকেটে ৩৫৩ রান করে দিন শেষ করে তারা। মূলত চার ব্যাটারের ফিফটিতে এগিয়ে যায় দলটি। শামসুর রহমান। সর্বোচ্চ ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন। ১৫৭ বলে ৭টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। ১১২ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬২ রানের ইনিংস খেলেন জাতীয় দলের ব্যাটার সাদমান ইসলাম।

রাজশাহীর হতাশা বাড়িয়ে ফিফটি তুলে অপরাজিত আছেন আমিনুল ইসলাম। ১২৭ বলে ৬৫ রান তুলে উইকেটে আছেন তিনি। তার সঙ্গে লেজের ব্যাটার আবু হায়দার অপরাজিত রয়েছেন ৫৬ রান নিয়ে। রাজশাহীর পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ফরহাদ রেজা ও সানজামুল ইসলাম।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে ১২০ রানে এগিয়ে আছে স্বাগতিকরা। তিন ফিফটিতে এদিন নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৬৫ রান তুলেছে সিলেট। ওপেনার সায়েম আলম দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন। ১৭৭ বলে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি।

জাকির হাসান ও জাকের উভয়েই ৬৭ রান করে করেন। ১৩২ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কার ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন জাকের আলী। জাকির হাসান ১৪৩ বলে ৩টি চারে নিজের ইনিংস সাজান। ঢাকার হয়ে ৭২ রানের খরচায় ৫টি উইকেট পান নাজমুল ইসলাম অপু। তাইবুর পান ৩ উইকেট।

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১ উইকেট হারিয়ে ২২ রান করে দিন শেষ করেছে ঢাকা। আব্দুল মজিদ ৮ ও জয়রাজ শেখ ১৩ রানে উইকেটে আছেন।

সিলেটে দিনের অপর ম্যাচে রংপুর বিভাগের বিপক্ষে ৫৬ রানে এগিয়ে আছে খুলনা বিভাগ। আগের দিনের ৯ উইকেটে ২৫৭ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে এদিন কোনো রানই যোগ করতে পারেনি খুলনা। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২২২ রানে অলআউট হয়েছে রংপুর।

মূলত আরিফুল হক ও আকবর আলীর ব্যাটে লিডটা বড় হয়নি খুলনার। ৮১ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৬ রান করেন আরিফুল। আকবর খেলেন ৫৪৩ রানের ইনিংস। এছাড়া আর কোনো ব্যাটার সে অর্থে দায়িত্ব নিতে পারেননি। খুলনার হয়ে ৬২ রানের খরচায় ৫টি উইকেট পান মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। ৪টি উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১ উইকেটে ২১ রান তুলেছে খুলনা। অমিত মজুমদার ৬ ও তুষার ইমরান ১৪ রানে উইকেটে আছেন।