ম্যাচ জেতানো বিস্ফোরক ইনিংসে ধোনির রেকর্ড ভাঙলেন কার্তিক
ছয়ে নেমে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন অভিজ্ঞ দিনেশ কার্তিক। তার ২৭ বলে ৫৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে ভারত পেল জয়ের পুঁজি। আগ্রাসী ব্যাটিং উপহার দিয়ে অনুমিতভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতলেন কার্তিক। ফিফটি হাঁকানোর পথে তিনি পেরিয়ে গেলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির একটি অর্জনও।
রাজকোটে শুক্রবার সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ভারত জিতেছে ৮২ রানে। তাদের ছুঁড়ে দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় মাত্র ৮৭ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। আভেশ খান ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৪ ওভারে ১৮ রানে পান ৪ উইকেট। তবে ম্যাচ জেতানোর নায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয় কার্তিককে। এই সংস্করণে ভারতের জার্সিতে ৩৬তম ম্যাচে প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা পান তিনি।
এতদিন টি-টোয়েন্টিতে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে ফিফটি করার রেকর্ড ছিল ধোনির। ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই ৩৬ বছর ২২৯ দিন বয়সে তিনি পেয়েছিলেন হাফসেঞ্চুরি। চার বছরের ব্যবধানে তাকে পেছনে ফেলে দিলেন কার্তিক। ৩৭ বছর ১৬ দিন বয়সে তিনি পেলেন ফিফটি। প্রায় ১৬ বছর আগে কার্তিকের টি-টোয়েন্টি অভিষেকও হয়েছিল প্রোটিয়াদের বিপক্ষে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে জোহানেসবার্গে তিনি করেছিলেন অপরাজিত ৩১ রান। সেদিনও ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছিল তার হাতে।
সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে কার্তিক যখন ক্রিজে যান, তখন ১২.৫ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ৮১ রান। সেখান থেকে দলকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পাইয়ে দেওয়ার মূল কৃতিত্ব তার। কার্তিকের ব্যাট থেকে আসে ৯ চার ও ২ ছক্কা। পঞ্চম উইকেটে হার্দিক পান্ডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ৩৩ বলে ৬৫ রানের দারুণ জুটি গড়েন তিনি। বড় শট হাঁকাতে গিয়ে তার ইনিংস থামে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে।
লক্ষ্য তাড়ায় আভেশের বিপরীতে এলোমেলো হয়ে পড়ে প্রোটিয়ারা। এছাড়া, যুজবেন্দ্র চাহাল ২১ রানে নেন ২ উইকেট। অল্প রানে অলআউট হয়ে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্কোরের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের আগের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ছিল ৮৯, ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এই সংস্করণে রানের দিক থেকে ভারতের কাছে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় হার।
পাঁচ ম্যাচের সিরিজে চলছে ২-২ ব্যবধানে সমতা। আগামীকাল রোববার বেঙ্গালুরুতে অঘোষিত ফাইনালে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটা ৩০ মিনিটে মুখোমুখি হবে দুই দল।