ল্যাম্পার্ডের জাদুতে ২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে কভেন্ট্রি

স্পোর্টস ডেস্ক

সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিলেন ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। দীর্ঘ ২৫ বছর পর কভেন্ট্রি সিটিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফিরিয়ে এনে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন এই কিংবদন্তি সাবেক ফুটবলার।

ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা কভেন্ট্রি শুক্রবার রাতে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের বিপক্ষে তাদের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে। এতে আগামী মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগে খেলা নিশ্চিত হয় তাদের। ইউড পার্কের গ্যালারিতে উপস্থিত সাড়ে সাত হাজার কভেন্ট্রি ভক্তের গগণবিদারী উল্লাসের মাঝে উৎসবের মধ্যমণি ছিলেন ল্যাম্পার্ড ও তার শিষ্যরা।

এটি ল্যাম্পার্ড ও কভেন্ট্রি— উভয়ের জন্যই দীর্ঘ নির্বাসন শেষে যেন এক দারুণ পুনর্জন্ম! ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর সাবেক ইংলিশ ও চেলসি মিডফিল্ডার ল্যাম্পার্ডের চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু। তিনি বলেন, 'সত্যি বলতে, আমার ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপেই কিছু না কিছু প্রমাণ করার ছিল। খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই এটি আমার ভেতরে কাজ করে। আপনাকে সব সময় কিছুর না কিছুর বিপক্ষে লড়তে হয়।'

কভেন্ট্রির জন্য এই ফিরে আসার পথ ছিল অনেক দীর্ঘ ও কন্টকাকীর্ণ। ২০০১ সালে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমিত হয় তারা। ফলে ইংল্যান্ডের শীর্ষ স্তরের ফুটবলে টানা ৩৪ বছরের যাত্রা শেষ হয় ১৯৮৭ সালের এফএ কাপ বিজয়ীদের। এরপর ক্লাবটির মান এতটাই কমে যায় যে, ২০১৭ সালে তারা চতুর্থ স্তরে নেমে যায়। এমনকি আইনি লড়াইয়ের কারণে তিন মৌসুম তারা ছিল নিজস্ব স্টেডিয়ামহীন।

অবশেষে ল্যাম্পার্ডের হাত ধরেই ইংলিশ ফুটবলের অভিজাত স্তরে ফের ঠাঁই নিল কভেন্ট্রি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে যখন তাকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন সেটি ছিল বড় এক ঝুঁকি। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় কোচ মার্ক রবিনসকে বরখাস্ত করার পর মালিক ডগ কিং যখন ল্যাম্পার্ডকে বেছে নেন, সমর্থকরা শুরুতে তা খুব একটা পছন্দ করেনি। তবে কিং বিশ্বাস করেছিলেন ল্যাম্পার্ডের সামর্থ্যে। তিনি বলেছিলেন, 'ফ্র্যাঙ্ক চ্যাম্পিয়নশিপের নাড়ি-নক্ষত্র জানে এবং জানে এখানে সফল হতে কী প্রয়োজন।'

যদিও তখন পর্যন্ত খেলোয়াড় হিসেবে চেলসিতে ১১টি বড় শিরোপা আর রেকর্ড ২১১টি গোল করা ল্যাম্পার্ডের কোচিং ক্যারিয়ার ছিল বেশ উত্থান-পতনের। কোচ হিসেবে নিজের প্রথম মৌসুমে ২০১৯ সালে ডার্বি কাউন্টির হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের প্লে-অফের ফাইনালে হেরে যান তিনি। এরপর চেলসির কোচ হয়ে প্রথম মৌসুমে চতুর্থ হওয়া ও তরুণদের সুযোগ দিয়ে প্রশংসা পেলেও শিরোপাহীন থেকে ছাঁটাই হন ২০২১ সালে। এভারটনকে অবনমন থেকে বাঁচালেও এক বছরের মাথায় সেখানেও চাকরি হারান তিনি। এমনকি ২০২৩ সালে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে ফিরে চেলসির হয়ে ১১ ম্যাচের আটটিতেই পরাজিত হন।

৪৭ বছর বয়সী ল্যাম্পার্ড কভেন্ট্রিতে যখন দায়িত্ব নেন, তারা তখন অবনমন অঞ্চল থেকে মাত্র ২ পয়েন্ট উপরে ছিল। সেই খাদের কিনারা থেকে দলটিকে টেনে তুলেছেন তিনি। প্রিমিয়ার লিগে ফেরার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতার খুব কাছে তারা।

নিজের উন্নতির পেছনে মেন্টরদের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ল্যাম্পার্ড বলেন, 'জোসে মরিনিয়োর অধীনে কাজ করা ছিল অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। তিনি আবেগপ্রবণ হলেও কৌশল ও দল পরিচালনায় দারুণ শক্তিশালী ছিলেন। অন্যদিকে, কার্লো আনচেলত্তি ছিলেন ভীষণ শান্ত। আমি সম্ভবত এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকার চেষ্টা করি। আমি ভুল থেকে শেখার চেষ্টা করি এবং নিজের সত্তাকে ধরে রাখি।'