শাইনপুকুরকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দিলেন রিপন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দলীয় ১৪২ রানেই ৯ উইকেট শেষ শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের। শেষ দুই ব্যাটার তখন উইকেটে। জয়ের জন্য তখনও চাই ৩১ রান। মনে হচ্ছিল জয়টা তখন রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার। সেখান থেকে অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে শাইনপুকুরকে নাটকীয় এক জয় এনে দিলেন রিপন মন্ডল।

রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ১ উইকেটে হারিয়েছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৮.৩ ওভারে ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় রূপগঞ্জ। জবাবে ২ বল হাতে থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছায় শাইনপুকুর।

রিপন কাজটা শুধু যে ব্যাট হাতেই করেছেন এমন নয়। এর আগে বল হাতে তোপ দাগিয়ে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের ছুঁড়ে দেওয়া লক্ষ্যটা বড় হতে দেননি তিনিই। তার বোলিং তোপেই হাতের নাগালেই থাকে লক্ষ্য। এরপর ব্যাট হাতেও খেললেন অসাধারণ এক ইনিংস। দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন এ তরুণ।

অথচ লক্ষ্য তাড়ায় দুই ওপেনারই ফিরেন খালি হাতে। চার নম্বর ব্যাটারও ফিরেন শূন্য রানেই। সবমিলিয়ে চার ব্যাটার কোনো রানই করতে পারেননি। স্কোরবোর্ডে যখন ১ রান তখনই ৩ উইকেট হারায় দলটি। তবে অধিনায়ক সাজ্জাদুল হকের সঙ্গে সিকান্দার রাজার ৫৫ রানের জুটিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে দলটি।

তবে এরপর ১৭ রানের ব্যবধানে এ দুই সেট ব্যাটার সহ আরও একটি উইকেট হারলে ফের চাপে পড়ে যায় দলটি। তখন আলাউদ্দিন বাবুকে নিয়ে দলের হাল ধরেন রিপন। নবম উইকেটে ৩৩ রান যোগ করেন এ দুই ব্যাটার। এরপর শেষ উইকেট জুটিতে অবিচ্ছিন্ন থেকে হাসান মুরাদকে নিয়ে ৩৩ রানের আরও একটি জুটি গড়েন রিপন। শাইনপুকুর পায় রোমাঞ্চকর এক জয়।

২৮ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন রিপন। এ রান করতে ৬৫ বল মোকাবেলা করেন তিনি। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন মুরাদ। ১৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে। দলের দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন রাজা। আলাউদ্দিন খেলেন ২২ রানের কার্যকরী ইনিংস। এছাড়া সাজ্জাদুল করেন ২৭ রান।

রূপগঞ্জের পক্ষে ২১ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন নাসুম আহমেদ। ২৭ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট নেন এনামুল হক জুনিয়র। ২টি শিকার বাবা অপরাজিথের।

এরপর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই মিজানুর রহমানকে হারায় রূপগঞ্জ। এরপর দলীয় ৩৬ রানে দুটি এবং দলীয় ৬৩ রানে আরও দুটি উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে দলটি। এরপর শরিফুল্লাহর সঙ্গে ৩৫ ও ফরহাদ রেজার সঙ্গে ৪৮ রানের দুটি জুটি গড়েন ফজলে রাব্বি। তাতেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় রূপগঞ্জ।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রানের ইনিংস খেলেন ফজলে। ৯৭ বলে ২টী চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ৪০ বল ১টি করে চার ও ছক্কায় ৩০ রান করেন রেজা। এছাড়া ৩১ রান আসে জাকিরের ব্যাট থেকে।

শাইনপুকুরের পক্ষে ৩০ রানের খরচায় ৩টি উইকেট পান রিপন। এছাড়া ২টি করে উইকেট শিকার করেন আলাউদ্দিন বাবু, হাসান মুরাদ ও সিকান্দার রাজা।