শেষ ওভারের রোমাঞ্চে শেখ জামালকে জেতালেন রসুল
নবম উইকেট হিসেবে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী যখন আউট হন তখনও জয়ের জন্য জন্য প্রয়োজন ২৭ রানের। শেষ উইকেটে কাজটা তখন মনে হয়েছিল কতই না কঠিন। শেষ ওভারেও প্রয়োজন ছিল ১২ রানের। কিন্তু সেই কঠিন কাজটা অসাধারণ ব্যাটিংয়ে কতো সহজেই না করে ফেলেন পারভেজ রসুল। রোমাঞ্চকর এক জয়ে শীর্ষে থাকা প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে স্পর্শ করে ফেলল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।
মঙ্গলবার ইউল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ১ উইকেটে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৬৫ রান করে প্রাইম ব্যাংক। জবাবে ১ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছায় ইমরুল কায়েসের দল।
শুধু যে ব্যাট হাতেই কাজটা করেছেন রসুল এমনও নয়। বল হাতে ঘূর্ণির মায়াজাল বিছিয়ে তিনিই প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের ছুঁড়ে দেওয়া লক্ষ্যটা রেখেছেন হাতের নাগালে। এরপর বাকি কাজটা সারেন ব্যাট হাতে। দলকে জিতিতেই তবে মাঠ ছেড়েছেন।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা দারুণ করে শেখ জামাল। সাইফ হাসানকে নিয়ে ৫৫ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন সৈকত আলী। এরপর অধিনায়ক ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ৩৪ রানের আরও একটি জুটি গড়ে আউট হন সৈকত। তবে এ জুটি ভাঙতে ১৫ রানের ব্যবধানে ৩টি উইকেট হারিয়ে চাপে পরে শেখ জামাল।
এরপর জহুরুল ইসলামের সঙ্গে ৩৭ ও পারভেজের সঙ্গে ৩৫ রানের আরও দুটি ছোট জুটি গড়ে আউট হন ইমরুল। এরপর শুরু হয় রসুলের লড়াই। জিয়াউর রহমান, সানজামুল ইসলাম, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ও আসিফ আহমেদকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান।
৫১ বলে ৬৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন রসুল। ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ৬৪ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন সৈকত আলী। ৭৯ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫২ রান করেন ইমরুল।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শাহাদাত দিপুকে সঙ্গে নিয়ে দারুণ সূচনা করেন বিজয়। ওপেনিং জুটিতেই আসে ১২০ রান। যার সিংহভাগ রানই আসে বিজয়ের ব্যাট থেকে। ৬১ বলে ৭৭ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে রবিউল ইসলাম রবির বলে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি।
এরপর অবশ্য স্কোরবোর্ডে আর ২ রান যোগ জোড়া ধাক্কা খায় প্রাইম ব্যাংক। সাহাদাতের সঙ্গে মোহাম্মদ মিঠুনকেও হারায় দলটি। সবমিলিয়ে স্কোরবোর্ডে ৩১ রান যোগ করতে ৫টি উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে দলটি। তবে ষষ্ঠ উইকেটে শেখ মেহেদী হাসানকে নিয়ে দলের হাল ধরেন আভিমান্যু ইয়াসবরন। গড়েন ৬৭ রানের জুটি। তাতেই লড়াইয়ের পুঁজি মিলে দলটির।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন বিজয়। ৬১ বলে ৮টি চার ও ৫টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ৮১ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন আভিমান্যু। ৪১ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪০ রান করেন শেখ মেহেদী। এছাড়া ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন সাহাদাত।
শেখ জামালের পক্ষে ২৫ রানের খরচায় ৪টি উইকেট পান রসুল। ২টি করে উইকেট নেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ও তাইবুর রহমান।