‘সব পাওয়া হয়ে গেছে’ তাই দায়িত্ব ছাড়ছেন শাস্ত্রীও!

স্পোর্টস ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরই এই সংস্করণে ভারতের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে কদিন ধরেই আলোচনায় বিরাট কোহলি। তার থেকেও বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন ভারতের প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী। চাওয়া অনুযায়ী সব পাওয়ার তৃপ্তি নিয়ে কোচিং পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে সাবেক এই ক্রিকেটার জানান, যা চেয়েছিলেন তারচেয়ে বেশি অর্জন করতে পেরেছেন, এখন বিশ্বকাপটা জিততে পারলে হবে বাড়তি পাওয়া।

এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মেন্টর হিসেবে ভারতীয় দলে যুক্ত করা হয়েছে সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। ভারতীয় গণমাধ্যমে গুঞ্জন শাস্ত্রীকে চাপে রাখতেই বোর্ডের এমন সিদ্ধান্ত।

এসব গুঞ্জনের মধ্যেই ইংল্যান্ডে বসে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার স্পষ্ট আভাস দিয়েছেন শাস্ত্রী,  'আমার মনে হয় এরকমটাই (বিশ্বকাপ দিয়েই কোচিং ইতি)। কারণ যা চেয়েছিলাম সবই পেয়েছি। পাঁচ বছর টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর ছিলাম। এই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে দুবার সিরিজ জিতেছি, ইংল্যান্ডে সিরিজ জিতেছি। মাইক আথারটনের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তাকে বলছিলাম, "অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো, কোভিডের পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জেতা আমার কাছে চূড়ান্ত।"'

লাল বলের ক্রিকেটে ভারত দাপট দেখালেও সাদা বলে এই সময়ে জিততে পারেনি বড় কোন টুর্নামেন্ট। ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়। সেই নিউজিল্যান্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও ধরাশায়ী করে ভারতকে। এর আগে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে যায় ভারত।

তবুও সাদা বলেও নিজের সাফল্য নিয়ে তৃপ্ত শাস্ত্রী,  'সাদা বলে সব দলকেই ওদের দেশে হারিয়েছি আমরা। যদি (টি-টোয়েন্টি) বিশ্বকাপটা  জিততে পারি তাহলে সেটা হবে বিশাল অর্জন। এরচেয়ে বেশি কি চাইতে পারি।'

লম্বা সময় ধরে ভারতীয় দলের সঙ্গে আছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। এক সময় ছিলেন সহকারী কোচ। ২০১৪ সালে তাকে দেওয়া হয় টিম ডিরেক্টর পদ। দুই বছর এই পদে থাকার পর ২০১৭ সাল থেকে পান প্রধান কোচের পদ। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর তার মেয়াদ বাড়নো হয়। চলতি মেয়াদ শেষ হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এরপর সরিয়ে দেওয়ার আগে নিজে থেকে সরে যাওয়া সম্মানের মনে হচ্ছে তার কাছে, 'আমি বিশ্বাস করি দলে অনাকাঙ্ক্ষিত হওয়ার আগেই সরে পড়া উচিত। আমি বলতে চাই যা করতে চেয়েছিলাম তারচেয়ে বেশি পেরেছি। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো, ইংল্যান্ডে এসে ইংল্যান্ডকে হারানো আমার চার দশকের ক্রিকেট জীবনে সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক সময়।'