সহজ ম্যাচ কঠিন করে সিটি ক্লাবের প্রথম জয়
শেষ আট ওভারে জিততে আর চাই ৩৬ রানের। হাতে ছয় উইকেট। সবচেয়ে বড় কথা উইকেটে ব্যাট করছেন সেট দুই ব্যাটার। সেখান থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। এক পর্যায়ে শেষ উইকেট জুটিতে শেষ দুই বলে প্রয়োজন ছিল ৬ রানের। তবে শাহরিয়ার আলম মাহিমের ছক্কায় সব আশা শেষ হয়ে যায় দলটির। ম্যাচ জিতে নেয় সিটি ক্লাবই। আসরে এটাই প্রথম জয় নবাগত দলটির।
রোববার সাভারের বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ম্যাচে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতিকে ১ উইকেটে হারিয়েছে সিটি ক্লাব। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪১ রান করেন খেলাঘর। জবাবে ১ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছায় সিটি।
লক্ষ্য তাড়ায় বেশ আগ্রাসী ঢঙেই শুরু করে সিটি ক্লাব। ফলে সাত ওভারেই এক উইকেট হারিয়ে দলীয় অর্ধশত পূরণ করে দলটি। দুই ওপেনার শাহরিয়ার কমল ও তৌফিক খান তুষার গড়েন ৩৫ রানের জুটি। তবে সিটি ক্লাবকে জয়ের ভিত গড়ে দেয় জাকিরুল আহমেদ জেমের সঙ্গে আশিক উল আলম নাঈমের চতুর্থ উইকেট জুটি। স্কোরবোর্ডে ৯৩ রান যোগ করেন এ দুই ব্যাটার।
এরপর পঞ্চম উইকেটে মইনুল ইসলাম সোহেলকে নিয়ে ৬০ রানের আরও একটি জুটি গড়েন আশিক। তবে এ জুটি ভাঙলে দারুণ উজ্জীবিত হয়ে ওঠে খেলাঘরের বোলাররা। ৩৪ রানের ব্যবধানে ৫টি উইকেট তুলে নিয়ে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছিল দলটি। তবে শেষ রক্ষা করতে পারেনি তারা।
সিটি ক্লাবের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন আশিক। ১০৫ বলে ৫টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। ৭৯ বলে ৭২ রান করেন জেম। ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান এ ব্যাটার। শেষ দিকে ১১ বলে ১টি করে চার ও ছক্কায় ১৪ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন উসমান খালিদ।
খেলাঘরের পক্ষে ৪১ রানের খরচায় ৪টি উইকেট পান মাসুম খান টুটুল। ২টি শিকার টিপু সুলতানের।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সিটি ক্লাবের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপ থাকে খেলাঘর। সে অর্থে রানের গতি বাড়াতে পারেনি দলটি। উল্টো নিয়মিত বিরতিতে উইকেট খুইয়ে দলীয় ৮২ রানে প্রথম সারির ব্যাটারকে হারায় তারা।
এরপর যথারীতি সালমান হোসেন ইমনকে নিওয়ে দলের হাল ধরেন অমিত হাসান। পঞ্চম উইকেটে ১১২ রানের জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটার। মূলত তাদের ব্যাটেই লড়াইয়ের পুঁজি মিলে দলটির।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৫ রানের ইনিংস খেলেন অমিত হাসান। ১০৮ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ৬৬ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন সালমান। ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। হাসানুজ্জামানের ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান।
সিটি ক্লাবের পক্ষে ৭৪ রানের খরচায় ৩টি উইকেট পান শাহরিয়ার আলম মাহিম।