সাইফুদ্দিন এই দিনের স্বপ্ন দেখে আসছেন সেই ছোটবেলা থেকে
সাকিব আল হাসান যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করেন, তখন কেবল ১০ বছরের বালক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। বেড়ে উঠার পুরোটা সময়ে তাই সাকিবকে তারকা হতে দেখেছেন তিনি। স্বপ্ন দেখছিলেন একসঙ্গে খেলবেন, জুটি বেধে বাংলাদেশকে জেতাবেন। এক দশক পর সাকিবের সঙ্গে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তো আগেই। এবার একসঙ্গে জুটি বেধে বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতানোর স্বপ্নও পূরণ হয়ে গেল।
রোববার হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রান তাড়ায় বিপদে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
১৭৩ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর সাকিবের সঙ্গে জুটি গড়েন সাইফুদ্দিন। তখন বাংলাদেশের জিততে দরকার আরও ৬৮ রান। একটু পা হড়কালেই ম্যাচ হাতছাড়া করার শঙ্কা।
চাপের সেই সময়টা দারুণ জুটিতে আর বিপদ বাড়াতে দেননি তিনি। সাকিবকে দিয়ে গেছেন সঙ্গ। জানালেন ঠিক এই সময়ের জন্য তার প্রতীক্ষা অনেকদিনের, ‘আমি যখন আমি তখন ৬৯ (আসলে ৬৮) রানের মতো মনে হয় লাগত। সত্যি বলতে স্বপ্ন ছিল উনার সঙ্গে খেলা এবং জুটি বেধে দল জেতানো। আমি হয়তবা কয়েকটা টক শোতে আগেই বলেছিলাম। সুযোগটা কাল এসেছিল। এবং তা স্মরণীয় করে রাখার জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। অনেক সময় লুজ বল পেলেও দলের প্রয়োজনে ডট খেলতে হয়েছে। দলের যেটা দরকার ছিল সেই অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। সাকিব ভাই যথেষ্ট সমর্থন করেছেন, এই জন্য কাজটা আমার সহজ হয়েছে।’
সাকিবের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৬৯ রানের জুটিতে সাইফুদ্দিনের অবদান ৩৪ বলে ২৮। সাকিব নিজেও বলেছেন পরিস্থিতি এমন হয়ে গিয়েছিল তার একার পক্ষে সবটা করা সম্ভব ছিল না। নয় নম্বরে নেমে সাইফুদ্দিন না দাঁড়িয়ে গেলে হয়ত ম্যাচটা খোয়াতেই হতো বাংলাদেশকে।
সোমবার টিম হোটেলে এই অলরাউন্ডার বলেন, বাড়তি কিছু নয় কেবল প্রক্রিয়া ঠিক রেখে সাকিবকে সঙ্গ দিতে চেয়েছিলেন তিনি, ‘অনেক চাপের পরিস্থিতি ছিল। এই সময়টার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম। হবে কি হবে না সেটা পরের ব্যাপার ছিল। চেষ্টা ছিল নিজের প্রক্রিয়া ঠিক রাখার। যেহেতু সাকিব ভাই ক্রিজে ছিল, আত্মবিশ্বাস ছিল। যদি এক এক করে নিয়ে উনাকে স্ট্রাইক দিতে পারি, খেলাটা ছোট করতে পারি। ইনশাল্লাহ আমাদের দিকে আসবে ফলটা। ওই কাজটাই হয়েছে।’
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সাইফুদ্দিনের পরিচয় ছিল অলরাউন্ডার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে তার পেস বোলিংটাই প্রাধান্য পায় বেশি, ব্যাটিং থেকেছে অনেকটা আড়ালে।
দলের সমন্বয়ের কারণেও উপরে ব্যাট করার সুযোগ ঘটে না। দল বিপদে পড়ায় অবশেষে নিজের সামর্থ্যের একটা প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি। তা কোনভাবেই যেন হাতছাড়া না হয় সেই চিন্তায় ছিল ২৪ বছর বয়েসী এই পেস অলরাউন্ডারের মাথায়, ‘সুযোগ সব সময় আসে না। যেহেতু আমি একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে ওইভাবে প্রমাণ করতে পারিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। সেই চেষ্টা ছিল। আমি অবশ্যই চাইব না যে আউট হয়ে যাক সবাই। যেহেতু সুযোগ এসেছে গতকাল চেষ্টা করেছি তা কাজে লাগানোর। নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য কিছুটা দেখানোর। সবচেয়ে বড় কথা দল জিতেছে আমার ছোট্ট অবদানে, এই জন্য বেশি আনন্দিত।’