হারের যে রেকর্ড ছিল কেবল বাংলাদেশের, তা এখন ইংল্যান্ডেরও
বাঁচা-মরার লড়াই ছিল ইংল্যান্ডের। দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই অ্যাশেজ যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে না চলে যায়, সেই চ্যালেঞ্জে উতরে যাওয়ার কঠিন পরীক্ষা ছিল। উল্টো চলতি সিরিজে নিজেদের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্সই করে বসল জো রুটের দল। তৃতীয় দিনেই টেস্ট হেরে অস্ট্রেলিয়ার মাটি থেকে অ্যাশেজ ফিরিয়ে নেওয়ার আশা শেষ হয়ে গেল তাদের। পাশাপাশি অস্বস্তির এক রেকর্ডে তারা বসে পড়ল বাংলাদেশের পাশে।
মঙ্গলবার মেলবোর্ন টেস্টের ফয়সালা হয়েছে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৬৮ রানে গুটিয়ে গিয়ে ইংল্যান্ড হেরেছে ইনিংস ও ১৪ রানে। টানা তিন ম্যাচ জিতে অ্যাশেজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
বিশাল এই হারে বিব্রতকর এক রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছে ইংলিশরা। চলতি বছর টেস্টে এটি তাদের নবম হার। এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি হারের কীর্তি এতদিন এককভাবে ছিল বাংলাদেশের দখলে। ১৮ বছর পর তাতে ভাগ বসিয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ হেরেছিল সমানসংখ্যক টেস্টে।
তবে পার্থক্য রয়েছে একটি জায়গায়। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছিলই নয়টি। অর্থাৎ প্রতিটি ম্যাচেই তারা পরাস্ত হয়েছিল। শেষ হতে যাওয়া ২০২১ সালে ইংলিশরা নয় টেস্ট হেরেছে ১৫ ম্যাচ খেলে। তারা জিতেছে চারটি। আর ড্র করেছে দুইটিতে।
এক পঞ্জিকাবর্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আটটি টেস্ট হারের নজিরও ইংল্যান্ড গড়েছে চারবার। প্রথমবার ১৯৮৪ সালে, শেষবার ২০১৬ সালে। মাঝে ১৯৮৬ ও ১৯৯৩ সালেও এই তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাদের। এছাড়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিনবার (২০০৪, ২০০৫ ও ২০১৫ সালে) ও বাংলাদেশ দুইবার (২০০২ ও ২০০৮ সালে) আটটি করে টেস্ট হেরেছিল।
উল্লেখ্য, মেলবোর্নে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে ১৮৫ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। জবাবে ২৬৭ রান করে ৮২ রানের লিড নেয় অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় এই রান পেরিয়ে অজিদের ফের ব্যাটিংয়ে নামাতে পারেনি সফরকারীরা। অভিষিক্ত স্কট বোল্যান্ডের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ২৭.৪ ওভার টিকতে পারে তারা। প্রথম ইনিংসে ১ উইকেট নেওয়া এই পেসার দ্বিতীয় ইনিংসে রেকর্ড গড়ে ৭ রানে ৬ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচসেরা।