পিএসজির জয়ে ফেরায় এমবাপে-নেইমারের লক্ষ্যভেদ

স্পোর্টস ডেস্ক

দারুণ ছন্দে থাকা কিলিয়ান এমবাপে প্রথমার্ধে দলকে এগিয়ে নিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে নয় মিনিটের ব্যবধানে নিশানা ভেদ করলেন নেইমার ও লেয়ান্দ্রো পারেদেস। টানা দুই হারের পর বোর্দোকে উড়িয়ে জয়ে ফিরল চাপের মধ্যে থাকা পিএসজি।

রোববার ফরাসি লিগ ওয়ানের ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছে মরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। গত সপ্তাহে শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৩-১ গোলে হেরে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বাদ পড়ে তারা। এর আগে ঘরোয়া লিগে প্যারিসিয়ানরা ১-০ গোলে হেরেছিল নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিসের কাছে।

চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেছিল পিএসজি। ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব আসরের শিরোপা আরও একবার অধরা থেকে যাওয়ায় জমা হওয়া অসন্তোষ উগড়ে দেন দলটির দর্শকরা। বল পেলেই নেইমার ও লিওনেল মেসিকে শুনতে হয় দুয়ো। তবে তরুণ ফরাসি স্ট্রাইকার এমবাপের অভিজ্ঞতা ছিল বিপরীত। তার পায়ে বল গেলেই হয় উল্লাস।

মাঠে উপস্থিত ভক্ত-সমর্থকদের নিন্দাসূচক ধ্বনি শোনা নেইমার গোল করে জবাব দিতে পারলেও মেসির কপাল মন্দ। রেকর্ড সাতবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শট বাধা পায় পোস্টে। নইলে পিএসজির জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

লিগ ওয়ানের শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দুর্বার গতিতে ছুটছে পিএসজি। ২৮ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৬৫। ১৫ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে তারা রয়েছে তালিকার শীর্ষে। নিস সমান ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে দুইয়ে।

পুরো ম্যাচে বল পায়ে প্রাধান্য দেখালেও প্রথমার্ধে নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করতে ভুগতে হয় পিএসজিকে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় তারা। সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষের গোলমুখে ১২টি শট নিয়ে তারা লক্ষ্যে রাখে পাঁচটি। অন্যদিকে, বোর্দোর নেওয়া ১৫টি শটেরও পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে।

একাদশে দুই পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নেমেছিল স্বাগতিকরা। গোলপোস্টের নিচে জায়গা হারান রিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে অমার্জনীয় ভুল করা জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা। তার পরিবর্তে গোলরক্ষক হিসেবে খেলা কেইলর নাভাসের পারফরম্যান্স ছিল উজ্জ্বল। 

২৪তম মিনিটে এমবাপের গোলে লিড নেয় পিএসজি। জর্জিনিয়ো ভাইনালডামের পাসে ডি-বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে জাল কাঁপান তিনি। চলমান লিগ ওয়ানে এটি তার ১৫তম গোল। মোনাকোর উইসাম বেন ইয়েদেরের সঙ্গে যৌথভাবে আসরের গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে আছেন তিনি।

বিরতির পর সপ্তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার। আশরাফ হাকিমির কাছ থেকে ছয় গজের বক্সের ভেতরে বল পেয়ে সহজ সুযোগ কাজে লাগান তিনি। লিগে তার গোলসংখ্যা বেড়ে হলো ৫টি।

চার মিনিট পর ভাইনালডাম বোর্দোর ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পেয়েছিল পিএসজি। কিন্তু রেফারি ভিএআরের সাহায্য নিলে পাল্টে যায় আগের সিদ্ধান্ত। কারণ, আক্রমণের শুরুতে নেইমার ছিলেন অফসাইডে।

৬১তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করে ফেলে পিএসজি। এমবাপের পাস থেকে নেইমার ডি-বক্সে বল পেলেও শট নিতে পারেননি বোর্দোর রক্ষণভাগের বাধায়। কিন্তু সফরকারীরা বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার পারেদেস দুই ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে গোলের স্বাদ নেন।