বিশ্বকাপে নীল রং ফিরিয়ে আনার লড়াই আজ

স্পোর্টস ডেস্ক

রাশিয়া বিশ্বকাপে যখন সুরের মূর্ছনা বেজে ওঠে, যখন গ্যালারীরে দর্শকরা মেতে ওঠে লাল-হলুদ-আকাশী-সবুজ নানা রং দিয়ে হলি খেলায়। তখন রোমান গ্ল্যাডিয়েটররা ছিলেন মাথা নত করে। মোনালিসার হাসিতে তখন বিষাদের ফোয়ারা। পিয়েৎসার ঝরনা ছিল শুকনো মরুভূমি। কারণ সে বিশ্বকাপে যে নীল রংটাই ছিল না। রংধনু ছিল অপূর্ণ।

অপার এক শূন্যতাই ছিল রাশিয়ায়। সে শূন্যতা কাতারে চায় না বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত। বিশ্ব মঞ্চে নীল রং ফিরিয়ে আনার দায়িত্বটা আজ বনুচ্চি, দোনারুমা, কিয়েসা, জর্জিনহো, ইনসিনিয়েদের কাঁধে। আজ সোমবার রাতেই বেলফাস্টে মাঠে নামছে ইতালি। প্রতিপক্ষ নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড।

আজ কাজটা করতে না পারলেই যে সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে এমনটাও নয়। থাকবে প্লে অফ খেলার সুযোগ। কিন্তু প্লে অফে সামান্য উনিশ বিশ হলেই যে পাল্টে যেতে পারে সমীকরণ। বাদ পড়ে যেতেও পারে ইতালির মতো জায়ান্ট দলও। আর এ ব্যাপারটা তাদের চেয়ে ভালো আর কে জানে।

সুইডেনে ঘরের মাঠে ১-০ গোলের হার। নিজেদের মাঠে ন্যুনতম ব্যবধানে জিতলেও ম্যাচ টাই-ব্রেকারে নিতে পারতো তারা। একটা নয়, দুইটা নয়, ২৭টি শট। কিন্তু সুইডিশদের রক্ষণ দুর্গ ভাঙতে পারলো কোথায়? একটিও জাল স্পর্শ না করায় শেষ পর্যন্ত রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে ছিটকেই গেল ইতালি। সেই দুঃস্বপ্ন কী আজও ভুলতে পেরেছে ইতালিয়ানরা?

আবার সেই সময় ফিরে আসবে না-তো? এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরে ফিরে চলছে ফুটবল পাড়ায়। কারণ আরও এবার নীল রং ছাড়া বিশ্বকাপ দেখতে চায় না কোনো ফুটবল ভক্তই।

অথচ কী দারুণ ছন্দেই না ছিল ইতালি। বুড়ো পিয়েরো ভেঞ্চুরার কাছ থেকে দায়িত্ব পেয়ে দলকে রাতারাতি বদলে দেন রবার্তো মানচিনি। একের পর এক বড় জয়। জিতে নিল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে গড়ল নতুন বিশ্ব রেকর্ডও। সেই ইতালিরই কি-না এখন সরাসরি বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সংশয়।

কাজটা আগের ম্যাচেই কঠিন করে ফেলেন চেলসির মিডফিল্ডার জর্জিনহো। অন্তিম মুহূর্তে পেনাল্টি মিসে সুইজারল্যান্ডকে হারাতে পারেনি তারা। সেই স্পটকিকে গোল পেলে এতোটা দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো না তাদের।

তবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে অন্তত একটা দিকে এগিয়ে আছে ইতালি। পয়েন্ট সমান হলেও গোল ব্যবধানে প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ডের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছে তারা। তাদের গোল +১১। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের +৯। তাই সাদামাটা জয় পেলেও মিলতে পারে কাতারের টিকেট।

কিন্তু দুশ্চিন্তাও রয়েছে। ইনজুরির কারণে চিরো ইম্মোবিলে, নিকোলো জানিওলো, লোরেঞ্জো পেলেগ্রিনি, জিওর্জিও কিয়েলিনি, আলেহান্দ্রো বাস্তোনি, ক্রিস্তিয়ানো বিরাঘি, সালভাতোর সিরিগুরা স্কোয়াড ছেড়ে চলে গেছেন। একই কারণে মার্কো ভেরাত্তিম লরেঞ্জো স্পিনাজ্জোলা, রাফায়েল তোলোই, আলেহান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জির মতো তারকা খেলোয়াড়রা নেই আগের থেকেই। 

ঘাটতি পোষাতে দাভিদ জাপাকস্তা, জিয়ান মার্কো ফেরারি, জিয়ানলুকা স্কামাকা, মাত্তেও পেসিনা, দানিলো কাতালদির মতো তরুণদের স্কোয়াডে ডাক দিয়েছেন কোচ রোবার্তো মানচিনি। কিন্তু তাদের নিয়ে কাজটা সহজ হবে না জানেন তিনি। তবে আত্মবিশ্বাসী এ কোচ।

'আমরা যে বিশ্বকাপে খেলব, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। জটিল পরিস্থিতি, তবে আমরা দুই গোলে (ব্যবধানে) এগিয়ে আছি। আমাদের সেখানে (নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে) যেতে হবে, নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে এবং জয়ের চেষ্টা করতে হবে। সেই সঙ্গে, আশা করি (অন্য ম্যাচে) বুলগেরিয়াও দুর্দান্ত খেলবে।'- এমনটাই বলেন মানচিনি।

কিন্তু যদি বুলগেরিয়া ভালো না খেলতে পারে। সুইজারল্যান্ড যদি বড় জয় তুলে নেয়। তাহলেই প্লে অফে চলে যেতে হবে চারবারের চ্যাম্পিয়নদের। এবার তো প্লে অফের সমীকরণটাও বেশ জটিল। এবার ইউরোপিয়ান বাছাই গ্রুপ বেশি থাকায় বেড়েছে দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের সংখ্যা। বেড়েছে ম্যাচও। শুধু আগের মতো হোম-অ্যাওয়ে দুটি ম্যাচ নয়। চার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সে লড়াইয়ে জিতে সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে জিতে কাটতে হবে বিশ্বকাপের টিকেট।

আর এ জটিল হিসেবে না যেতে না চাইলে আজই ফাইনাল ভেবেই নামতে হবে ইতালিয়ানদের। পারবে তো আজ্জুরিরা?