ব্যালন ডি'অর বিজয়ী নির্ণয়ে বিরাট পরিবর্তন

স্পোর্টস ডেস্ক

লিওনেল মেসির সপ্তম ব্যালন ডি'অরটা হাতে তুলে নেওয়ার পর সমালোচনা কম হয়নি। অনেকেই রবার্ট লেভানদভস্কিকে এগিয়ে রেখেছিলেন। তবে এবার এ পুরষ্কার জয়ের ব্যাপারে মেসির চেয়ে ঢের এগিয়ে গেলেন এ পোলিশ তারকা। কারণ এবার বিজয়ী নির্ণয়ে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে ব্যালন ডি'অর কর্তৃপক্ষ।

প্রতি বছরই সেরা ফুটবলারকে ব্যালন ডি'অর পুরস্কার দিয়ে আসছে ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকী। এ পুরষ্কারকে আরও স্বচ্ছ করতে আগের দিন চারটি বড় পরিবর্তন এনেছে তারা। দেখে নেওয়া যাক কি সেই পরিবর্তন।

১. ক্যালেন্ডার ইয়ারের পরিবর্তে মৌসুম সেরা ফুটবলার পাবেন পুরস্কার

গত বছর পর্যন্ত এক ক্যালেন্ডার ইয়ার অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের সেরা খেলোয়াড়কে দেওয়া হতো এই পুরস্কার। তাতে দুটি অর্ধ মৌসুম পড়ত। তবে এবার আর এমনটা হচ্ছে না। অন্যসব পুরস্কারগুলোর মতো মৌসুম ভেদে অর্থাৎ আগস্ট থেকে জুলাইয়ের মধ্যে সেরা পারফর্ম করা খেলেয়াড়কেই দেওয়া হবে ব্যালন ডি'অর পুরস্কার।

এই নিয়মে চলতি বছর পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত নারীদের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পারফরম্যান্স বিবেচ্য হলেও, নভেম্বরে শুরু হওয়া পুরুষদের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স বিবেচিত হবে না। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হবে পরবর্তী বছরের পুরস্কার দেওয়ার সময়ে।

২. মনোনীত ফুটবলারদের তালিকা বাছবেন আরও বেশি বিশেষজ্ঞরা

এতদিন ফ্রান্স ফুটবল এবং লা'কিপের এডিটাররা মিলেই পুরুষদের ব্যালন ডি'অরের জন্য ৩০ জন, নারীদের জন্য ২০ জন এবং ইয়াসিন ও কোপা ট্রফির জন্য ১০ জন করে ফুটবলার বেছে নিতেন। তবে এবার থেকে ব্যালন ডি'অর অ্যাম্বাসেডর দিদিয়ের দ্রগবা এবং গত বছরের ভোটারদের মধ্যে যে তিনজন সাংবাদিক যে সব থেকে আসল ফলাফলের কাছাকাছি ভোট দিয়েছিলেন, তাদেরও এই ফুটবলার মনোনয়নে যুক্ত করা হবে।

৩. কমছে ভোটারদের সংখ্যা

গত বছর ব্যালন ডি'অর পুরস্কারে ১৭০টি দেশের প্রতিনিধিরা নিজেদের ভোটদান করেছিলেন। তবে এখন থেকে সেই সংখ্যা কমতে চলেছে। ফিফার ক্রমতালিকায় থাকা প্রথম ১০০টি এবং নারীদের ক্ষেত্রে প্রথম ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরাই এবার থেকে নিজেদের ভোট দিতে পারবেন।

৪. বদলাচ্ছে সেরা বাছাইয়ের মানদণ্ড

ব্যালন ডি'অর যেহেতু ব্যক্তিগত পুরস্কার, তাই স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে যে এবার থেকে ফুটবলারদের দলগত সাফল্যের আগে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই বিবেচিত হবে। দলগত সাফল্য নিয়ে বিচার বিবেচনা করা হবে পরে। তৃতীয় মানদণ্ড হিসাবে সেই ফুটবলারের সততা এবং দক্ষতার দিকে নজর দেওয়া হবে।