শাবিপ্রবিতে পুলিশি অ্যাকশন: কর্মসূচি-বিবৃতি দিয়ে সারাদেশে প্রতিবাদ

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিলেট

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ চলছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন-মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বিবৃতিতে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)

শাবিপ্রবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

আসকের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামালের সই করা এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যে কোনো নাগরিকের শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু পুলিশের এমন মারমুখী ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের এ অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

বিবৃতিতে আসক জানায়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে পুলিশ এ ধরণের অযাচিত পদক্ষেপ নিতে পারে না। তাই কর্তৃপক্ষ এ দায়ভার এড়াতে পারে না এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা।

ru_0.jpg
রাবির বুদ্ধিজীবী চত্বরে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ

শাবিপ্রবির সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের ছাত্রীদের যৌক্তিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

সংগঠনটির সভাপতি ডা. ফাওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানুর সই করা বিবৃতিতে এ ঘটনাকে দুঃখজনক ও অমানবিক উল্লেখ করে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।

একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অব্যবস্থাপনা দূর করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনকে সহনশীল আচরণেরও আহবান জানানো হয় বিবৃতিতে।

শাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়েছে শাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুল আলমের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনায় শিক্ষক সমিতি স্তম্ভিত, মর্মাহত এবং লজ্জিত।

বিবৃতিতে এ ঘটনায় চিহ্নিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবির পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

শাবিপ্রবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শাবিপ্রবির প্রাক্তন ৪৬৭ শিক্ষার্থীর যৌথ এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালকের পদত্যাগ দাবি করেন।

তারা এ ঘটনাকে শাবিপ্রবির ইতিহাসে অন্ধকার এক অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করে ক্যাম্পাস ও হল বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তদন্ত ও চিকিৎসার দায়ভার, শিক্ষার্থীদের দাবি পূর্ণ দায়িত্ব সহকারে মেনে নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ

শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।