ধামাকা: বকেয়া প্রায় ৪০০ কোটি, ব্যাংকে আছে ১ লাখেরও কম
৭৫০ কোটি টাকা লেনদেন এবং প্রায় ৪০০ কোটি বকেয়া থাকা সত্ত্বেও, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধামাকা শপিং ডট কমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ লাখেরও কম টাকা জমা আছে।
আজ বুধবার র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন কারওয়ান এ তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, ধামাকার কোনো অনুমোদন ও লাইসেন্স নেই। ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টও নেই। ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড নামের এক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তারা ব্যবসায়িক লেনদেন করেছেন ।
এ পর্যন্ত ওই অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্টে ১ লাখেরও কম টাকা জমা রয়েছে। বর্তমানে তাদের সেলার বকেয়া প্রায় ১৮০-১৯০ কোটি টাকা,কাস্টমার বকেয়া ১৫০ কোটি টাকা এবং কাস্টমার রিফান্ড চেক বকেয়া ৩৫-৪০ কোটি টাকা।
আর্থিক সংকটের কারণে গত কয়েক মাস যাবত প্রতিষ্ঠানের অফিস ভাড়া বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি জুন থেকে কর্মচারীদের বেতন বকেয়া আছে। গত এপ্রিল থেকে ধামাকার অর্থ অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলার কারণে গত জুলাই থেকে তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ আছে।
র্যাব আরও জানায়, ধামাকা ছাড়াও ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড,মাইক্রোট্রেড ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড এবং মাইক্রোট্রেড আইসিক্স লিমিটেড নামে তাদের আরও কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য তৈরিকারক ও গ্রাহক চেইন বা নেটওয়ার্ক থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। এ ছাড়া গ্রাহক ও সরবরাহকারীর টাকা আটকে রেখে অর্থ সরিয়ে ফেলা তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। দ্রুততম সময়ে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য তারা বিশাল অফার ও ছাড় দিয়ে সাধারণ জনগণকে প্রলুব্ধ করতো।
ধামাকার গ্রাহক সংখ্যা ৩ লাখেরও বেশি। সিগনেচার কার্ড, ধামাকা নাইট, রেগুলার ইত্যাদি বিভিন্ন অফারে তারা মোবাইল,টিভি,ফ্রিজ, মোটরবাইক,গৃহস্থালী পণ্য ও আসবাবপত্র বিক্রি করতো। সিগনেচার কার্ড অফারটি গত মার্চ- এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালনা করা হয়।
মাত্র ২০ শতাংশ পণ্য সরবরাহ করে অর্থ সরিয়ে গ্রাহকদের চেক দেয় ধামাকা। এরপর ধীরে ধীরে সব অর্থ সরিয়ে ফেলে।
প্রতারণা ও অর্থ-আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ধামাকার এক গ্রাহক গাজীপুরের টংগী পশ্চিম থানায় ধামাকা শপিংয়ের ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ধামাকার চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) সিরাজুল ইসলাম রানা এবং ক্যাটাগরি হেড ইব্রাহীম স্বপন ও ইমতিয়াজ হাসান সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।