পঞ্চগড়ে ঘোড়া জবাই মামলা থেকে ২ আসামির অব্যাহতি

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও

পঞ্চগড়ের ঘোড়া জবাইয়ের ঘটনায় করা একটি মামলা থেকে অভিযুক্ত মো. সানাউল্লাহ (৩২) ও হামিদুর রহমান (৩৩) নামে দুই যুবককে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আদালত মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তিরস্কার ও ভবিষ্যতে মামলা তদন্তকালে নিজ দায়িত্ব পালনে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ বুধবার দুপুরে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মতিউর রহমান এই আদেশ দেন। বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড়ের কোর্ট ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান।

তিনি জানান, একই আদেশে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বোদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান ও উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুস সোবহানকে তাদের দায়িত্ব পালতে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা কোনো ধরনের রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ঘোড়ার মাংস ক্ষতিকর মর্মে উল্লেখ করেছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করা হয়েছে।

হাদিসের বিভিন্ন দিক ও রেফারেন্স উল্লেখ করে ঘোড়ার মাংস হালাল ও বৈধ মর্মে উল্লেখ থাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক আসামি দুই জনের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ২৭৩ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিলের আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর বিকেলে বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের চৌধুরীহাটে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে ঘোড়া জবাইয়ের খবর পেয়ে পুলিশ মো. সানাউল্লাহ (৩২) ও হামিদুর রহমান (৩৩) নামে দুই যুবককে আটক করে এবং ৩৫ কেজি ঘোড়ার মাংস জব্দ করে।

জব্দকৃত ওই মাংস থেকে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে অবশিষ্ট মাংস বোদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমানের উপস্থিতিতে মাটিতে পুতে রাখে পুলিশ। পরে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুস সোবহানকে পরীক্ষার জন্য দেওয়া হয়।

পরদিন বোদা থানার উপপরিদর্শক লিপন কুমার বসাক বাদী হয়ে আটক দুই যুবক ও অজ্ঞাতপরিচয় ৩/৪ জনকে আসামি করে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পরে ওই দুই যুবককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার ওই যুবক সাত দিন হাজতবাসের পর ২৯ ডিসেম্বর আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন।

ওইদিন মামলার বিষয়বস্তু ঘোড়ার মাংস হালাল না হারাম সেই বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য মামলার বাদী লিপন কুমার বসাক ও বোদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমানকে নির্দেশ দেন আদালত। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম চলতি বছরের ৩০ জুলাই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এজাহারকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনা ও ভুলের কারণে আসামিদেরকে অহেতুক এই মামলায় সাত দিন হাজতবাস করতে হয়েছে, যা দুঃখজনক বলেও উল্লেখ করেন আদালত।