বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, আহত বকরের মৃত্যু
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বাড়িতে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে আহত আবুবকর সিদ্দিকী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ বুধবার সকালে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ও মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আহত হওয়ার ছয় দিন পরে গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুবকর মারা গেছেন।
গত ১৯ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আবুবকর বাড়িতে বোমা তৈরি করছিলেন। সেখানে তার স্ত্রী মধুবালাও উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ একটি বোমা বিস্ফোরিত হলে আবুবকর ও তার স্ত্রী আহত হন। ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। বকরের দুই পা, দুই হাত এবং তার স্ত্রী মধুবালার বাম হাত ও ডান পা মারাত্মকভাবে জখম হয়। আহত অবস্থায় মধুবালা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় বকরকে উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শরীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন ডেইলি স্টারকে জানান, আবুবকর উপজেলার বিলগাথুয়া গ্রামের ইন্তাজ মন্ডলের ছেলে। তিনি সীমান্তে চোরকারবারিতে নিয়োজিত এমন একটি দলের সদস্য। তার কাজ ছিল বোমা বানিয়ে সরবরাহ করা।
ঘটনার পরে আবুবকরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই চক্রের সন্ধান পেয়েছে বলে জানায় পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এরপর তখনই অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন, একই গ্রামের ইয়াকুব মন্ডলের ছেলে প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আবুল কালাম (৪৫), আমিরুল মাস্টারের ছেলে বিকু (৪০) ও তাহের আলীর ছেলে রায়হান (২২)।
এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আবুবকর ও তার স্ত্রী মধুবালাকে আসামি করা হয়।
নাসির উদ্দিন আরও বলেন, মধুবালা এখনো বেঁচে আছেন। তবে তিনি পলাতক। মামলার অন্য আসামিরাও পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।