ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্কুলছাত্রী অপহরণের পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্কুলছাত্রীকে প্রাইভেটকারে তুলে অপহরণের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীকে আজ মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)।
আজ সকালে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-২ এর একটি দল রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি ও ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মো. জসিম উদ্দিনকে (২৫) গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিক্ষার্থীকে উত্যক্ত করা ও অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন জসিম।
অপহরণের সময় পাশের বাসার একটি সিসি ক্যামেরায় সেটি ধরা পড়ে। পরে সেই অপহরণের ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে গতকাল সোমবার মামলার ৩ নম্বর আসামি কাউসার মিয়াকে (৩২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গতকাল ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ৫ জনের নামে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, অপহরণের সঙ্গে জড়িতরা সবাই সদর উপজেলার মৈন্দ গ্রামের বাসিন্দা। ওই শিক্ষার্থীর পরিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বসবাস করেন। মৈন্দ গ্রামের ধন মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন (২৫) ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করতো। কয়েকদিন আগে জসিম ওই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে ওই শিক্ষার্থী ও তার পরিবার সাড়া দেয়নি। সম্প্রতিকালে স্কুল খোলার পর থেকে জসিম ওই শিক্ষার্থীকে ফের উত্যক্ত করতে শুরু করে। গত শনিবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থী তার বাসা থেকে বের হওয়ার পর এক যুবক তার পিছু নেয় এবং এক পর্যায়ে তার গতিরোধ করে প্রাইভেটকারে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি পাশের বাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা পরা ওই শিক্ষার্থী স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার ডান পাশে সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার এসে থামার পরপরই মেয়েটির পিছু নেওয়া এক যুবক তাকে ধাক্কা দিয়ে প্রাইভেটকারে তুলে নেয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, অপহরণকারীরা সারাদিন ওই শিক্ষার্থীকে প্রাইভেটকারে নিয়ে ঘুরাঘুরির পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটি বাসায় ফিরে পুরো বিষয়টি পরিবারকে জানায়। এরপর মামলার বাদী ঘটনাটি থানায় অবহিত করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ার গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, 'মামলা দায়ের হওয়ার আগেই ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করে। রোববার রাতে মামলার প্রধান আসামি জসিমের বড় ভাই কাউসার মিয়াকে আটক করে পুলিশ।'