গরমে ক্লান্ত? এনার্জি ধরে রাখতে পারেন এই ৭ উপায়ে
গ্রীষ্মের প্রখরতায় কাজ করার শক্তি কমে যায়। এই সময় অনেক সহজ কাজ করতেও বেশ কষ্ট হয়। শুধু তাই নয়, মনোযোগ ও প্রোডাক্টিভিটিও অনেক কমে যায়।
গরমের দিনে কাজের এনার্জি ধরে রাখতে হলে প্রথমে কিছু বিষয় বুঝতে হবে। কয়েকটি কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে খুব সহজেই অন্যান্য দিনের মতোই কাজে শতভাগ দিতে পারবেন। অস্বস্তিকর গরম আপনাকে হারাতে পারবে না। চলুন বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক—
পর্যাপ্ত পানি পান করা
পর্যাপ্ত পানি পান করা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রির বেশি হয়, তাহলে অফিসে বসে কিংবা বাইরে তপ্ত রোদের নিচে কাজ করার সময় এই পানি পান করা আরও জরুরি হয়ে ওঠে।
গরমের দিনে শরীর বেশি ঘামে এবং শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ হয় এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে সহজেই মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা বা অনেক সময় বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।
তাই সবসময় সঙ্গে পানির একটি বোতল রাখুন। শুধু পিপাসা পেলেই পানি পান করতে হবে এমন নয়; বারবার পানি পান করা উচিত। এক্ষেত্রে শুধু পানি নয়, ফলের রস, ডাবের পানি বা রসালো ফলও খাওয়া যেতে পারে। এতে শরীরের পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যও বজায় থাকে।
সোডা বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা
গরমের দিনে সোডা ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এ ধরনের পানীয়কে ‘ডাইইউরেটিকস’ বলা হয়, যা আমাদের শরীরে মূত্রের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে শরীর থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ও সোডিয়াম বের হয়ে যায় এবং পানিশূন্যতার সৃষ্টি হয়।
সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা
পর্যাপ্ত পানি পানের পাশাপাশি সঠিক পুষ্টি শরীরের শক্তি বজায় রাখতে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে। গরমের দিনে ভারী খাবার খেলে ক্লান্তি লাগে এবং শরীরে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়। ফলে যেকোনো কাজের প্রতি অনীহা দেখা দেয়।
ভারী খাবারের পরিবর্তে হালকা খাবার, যেমন সালাদ, ফলমূল বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে এগুলো পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শরীরকে সতেজ রাখে।
পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম নিশ্চিত করা
সারাদিনের কাজের ক্লান্তি এবং তীব্র গরমের অস্বস্তিকর অনুভূতির পর রাতে একটি ভালো ঘুম আপনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে পরবর্তী দিনের জন্য পুরোপুরি সতেজ করে তোলে।
গরমের দিনে অনেকেরই রাতে ভালো ঘুম হয় না এবং তারা অস্বস্তিতে ভোগেন। রাতে ভালো ঘুমের জন্য কিছু ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। যেমন: দিনে রোদের সময় ঘরের পর্দাগুলো টেনে রাখলে রোদ ভেতরে ঢুকতে পারে না। ফলে ঘর কিছুটা ঠান্ডা থাকে, যা রাতে ঘুমানোর সময় স্বস্তি দেয়।
এছাড়াও, ঘুমানোর আগে যাদের ঠান্ডাজনিত সমস্যা নেই, তারা গোসল করে হালকা সুতি কাপড় পরে ঘুমোতে যেতে পারেন। এগুলো গরমের সময়ে আরামদায়ক ঘুমের জন্য অনেকটাই সহায়ক।
সুস্থতার প্রতি খেয়াল রাখা
প্রচণ্ড গরমের দিনে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রাথমিক সেবা নিতে হবে বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, সেগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। মাথা ঘোরা, ক্লান্তিভাব, চোখ-মুখ লাল হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা রক্তচাপ বেড়ে গেলে অতিসত্বর জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে।
নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে। শরীর ভালো থাকলে মনও ভালো থাকে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়। গরমের দিনে হালকা ধরনের ব্যায়াম করা উচিত।
কাজের ফাঁকে নিয়মিত বিরতি নেওয়া
গরমের দিনগুলোতে টানা কাজ করলে ক্লান্তি আসে এবং অনেক সময় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। কাজের ফাঁকে স্বল্প বিরতি নিলে ক্লান্তিভাব কমে এবং কাজের উদ্যম বজায় থাকে।
সে সময়ে মনকে প্রফুল্ল করে এমন কিছু করা যেতে পারে। যেমন: নিজের কাজের ডেস্ক থেকে উঠে কিছুটা হাঁটাহাঁটি করা, সহকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করা বা নিজের পছন্দের কোনো কাজ করা। তীব্র গরমেও কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এটি খুবই সহায়ক।
আরামদায়ক পোশাক পরিধান করা
গরমের দিনে আরামদায়ক পোশাক কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও এক ধরনের স্বস্তি এনে দেয়। পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা, হালকা রঙের, নরম ও সুতি কাপড় বেছে নেওয়া উচিত। ঢিলেঢালা পোশাক পরলে শরীরের ঘাম সহজে শুকিয়ে যায় এবং অস্বস্তি বোধ হয় না।
তীব্র সূর্যালোক ও গরম থেকে বাঁচতে বাইরে বের হওয়ার আগে লম্বা হাতার পোশাক পরিধান করা উচিত, যা ত্বক পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
