যশোর শিক্ষা বোর্ডে চেক জালিয়াতি: প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন পাঠিয়েছে দুদক
চেক জালিয়াতি করে যশোর শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়।
দুদকের যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুসচ্ছায়াদাত দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ঢাকা থেকে সিদ্ধান্ত আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদনে আত্মসাতের ঘটনায় একজন নয় অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তিনি বলেন, 'আমরা কাগজপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করছি, সেখানে কার কার সই রয়েছে- বিহাইন্ড দি সিন যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।'
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ১৫ লাখ টাকার পে-অর্ডারসহ একটি চিরকুট পাঠিয়েছেন পলাতক হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম। গতকাল জরুরি বোর্ড সভা করেছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হিসাব সহকারী সালামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার বোর্ড সচিবের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়। তারা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন অর্থ উত্তোলনকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে। সংশ্লিষ্ট ৩টি ব্যাংকের শাখায়ও কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে দুদকের তদন্ত দল।
যশোর দুদকের উপপরিচালক নাজমুসচ্ছায়াদাত জানান, ঢাকা থেকে নির্দেশনা আসার পর চূড়ান্ত তদন্ত শুরু হবে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ পলাতক হিসাব সহকারী সালামকে খুঁজছেন। সালামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পুরো ঘটনা পরিস্কার হবে।
বোর্ডের সচিব এ এম এইচ আলি আর রেজা জানান, সালামকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পওয়া যাচ্ছে। যদি তিনি অনেক দিন অফিসে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বোর্ড চেয়ারম্যান ড. মোল্লা আমীর হোসেন জানান, বোর্ড সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক এ এস এম আব্দুল খালেক, বাগেরহাট সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক, যশোর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষসহ সাত জন উপস্থিত ছিলেন। সভায় টাকা আদায়ের চেষ্টার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।