‘মায়ের আশা ছিল রক্তিম একবারের জন্য চোখ খুলবে’
সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ ছেলে নিহতের ২ সপ্তাহ পর, আহত আরেক ছেলে রক্তিম সুশীল গতকাল মঙ্গলবার মারা যান। ছেলের মরদেহ বাড়িতে আসার পর, মা মৃণালিনী অচেতন হয়ে যান। জ্ঞান আসার পর তিনি নির্বাক হয়ে পড়েন, এমনকি কাঁদতেও পারছিলেন না। প্রায় ১ মাস আগে ষাটোর্ধ্ব এই নারী স্বামীকে হারান এবং গত ৮ ফেব্রুয়ারির দুর্ঘটনায় হারালেন ৬ ছেলেকে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকরিয়ায় মালুমঘাটে নিজ গ্রামে রক্তিম সুশীলের (৩২) শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রক্তিমের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে তখন হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির তৈরি হয়।
আজ বুধবার রক্তিমের বোন মুন্নি সুশীল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'শনিবার তার মা রক্তিমকে দেখতে গিয়েছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে। রক্তিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে মা শুধু কাঁদছিলেন।'
'মায়ের আশা ছিল রক্তিমের জ্ঞান ফিরে আসবে, সে একবারের জন্য চোখ খুলবে,' মুন্নি বলেন।
তিনি বলেন, 'মা গত ১৫ দিন ধরে রক্তিমের সুস্থতার জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করছিলেন। কিন্তু এখন তার মৃত্যুর পর মা সব শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।'
রক্তিমের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাদের বাড়িতে যান মামাতো ভাই লিটন শর্মা। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মামী ১ মাসের ব্যবধানে স্বামী ও ৬ ছেলেকে হারিয়েছেন। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার কোনও ভাষা নেই আমাদের। আমরা সবাই শোকাহত।'
গত ১২ ফেব্রুয়ারি রক্তিমকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল থেকে চমেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়।
চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. নোমান খালেদ চৌধুরী জানান, চমেক হাসপাতালে ভর্তির সময় রক্তিমের জ্ঞান ছিল না। তিনি আর জ্ঞান ফিরে পাননি।
'তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ফ্র্যাকচার ছিল এবং ব্রেন হেমারেজ হয়েছিল', যোগ করেন তিনি।
পরিবারের সূত্র থেকে জানা গেছে, রক্তিমের একটি ৪ বছর বয়সী ছেলে আছে।
৮ ফেব্রুয়ারি সকালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় তাদের সদ্য প্রয়াত বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে শ্মশান থেকে ফেরার পথে পিকআপ ভ্যানের চাপায় ৫ ভাই অনুপম সুশীল (৪৭), নিরুপম সুশীল (৪৫), দীপক সুশীল (৪০) ও চম্পক সুশীল (৩০) ও স্মরণ সুশীল (২৯) নিহত হন এবং রক্তিম, প্লাবন ও আরেক বোন হীরা আহত হন। প্লাবন সুস্থ হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি চমেক হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আসেন।
এ ঘটনাকে পূর্ব-পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড আখ্যায়িত করে পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। ইতোমধ্যে প্লাবন বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।

