প্রায় ৩ বছর পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি গত ১৩ বছরে ২৬ বার আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। এখন বিএনপির আন্দোলনের কথা শুনলে মানুষ হাসে। ১৩ বছরে পারল না, কোন বছর পারবে।'

তিনি আরও বলেন, 'তারা আন্দোলনের নামে ভুয়া হুমকি-ধামকি দেয়। মাঠে আন্দোলনের কর্মী খুঁজে পায় না।'

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বড় রাজাপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

২০১৯ সালের পর দীর্ঘ প্রায় ৩৩ মাস পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় এসেছেন ওবায়দুল কাদের।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'এলাকার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। করোনার সময়ে এলাকায় অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, আইসিইউ প্রতিস্থাপন, খাদ্য ও ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছি। বহুদিন মা-বাবার কবর জিয়ারত করতে পারিনি, তাই মনটা খারাপ ছিল। যারা আমার ভোটার তাদের মাঝে দীর্ঘদিন পরে হলেও আসতে পেরে ভালো লাগছে।'

নোয়াখালী-৫ আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, 'বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দেখে বিএনপির গাত্রদাহ হয়। কারণ বিএনপি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, তারা লুটপাটেও চ্যাম্পিয়ন।'

তিনি বলেন, 'জুনে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হবে। এটা সরকারের জন্য বড় অর্জন। নিজ অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতু করেছি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে লুটপাট করে খেতো। উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও হতো না।'

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, 'অনেক কিছু ঠিক করে ফেলেছি, বাকিটাও ঠিক হয়ে যাবে।'

গত এক বছর নানা ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা। বড় ভাই ওবায়দুল কাদের ও ভাবীর বিরুদ্ধে নিয়মিত বিষেদগারও করেছেন তিনি। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে নিয়মিত ভাবেই  সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন কাদের মির্জা।

স্থানীয় রাজনীতিতে কাদের মির্জা বিরোধী অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল। এই ২ গ্রুপের দ্বন্দ্বে গত কয়েক মাসে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে এক সাংবাদিকসহ নিহত হয়েছেন ২ জন এবং আহত হয়েছেন সহস্রাধিক। পাল্টাপাল্টি অন্তত ৭২টি মামলা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে উভয়পক্ষের প্রায় ৭ হাজার নেতাকর্মীকে।