অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী
করোনা অতিমারির কারণে বাধাগ্রস্ত হলেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার সকালে চট্টগ্রামের মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ৪১তম ব্যাচের ক্যাডেটদের মুজিববর্ষের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা। শুধু স্বপ্ন না, সেই পথও তিনি প্রদর্শন করে গেছেন। প্রয়োজনীয় সকল আইন-সব কিছু আমাদের করে দিয়ে গেছেন। আমাদের দেশের বিশাল সমুদ্রসীমা; যে সীমায় আমাদের কোনো অধিকার ছিল না। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রথম দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটার্স অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪ প্রণয়ন করেন। যার ভিত্তিতে পরবর্তীতে আমরা এ বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।
দুর্ভাগ্য হলো ৭৫ এর পরে যারা সরকারে এসেছিলেন, তারা কিন্তু এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমাদের যে অধিকার আছে, সেই অধিকারের বিষয়টাও তারা চিন্তা করেনি। কেবল আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ৯৬ সালে আমরা প্রথম- জাতিসংঘ ১৯৮২ সালে যে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন করেছিল, সেই আনক্লজে আমরা সই করি এবং আমাদের সমুদ্রসীমার বিষয়টা রেকর্ড করে রাখি। দ্বিতীয়বার যখন সরকারে আসি, তখন আমরা তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়ে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করি। আমাদের দুটি প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই আমরা এই অর্জন করেছি। যে সমুদ্র সম্পদ আজকে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজে লাগবে বলে আমি বিশ্বাস করি, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আমাদের সমুদ্র সম্পদের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। ব্লু ইকোনোমি নীতিমালা ঘোষণা দিয়েছি। এই সম্পদ ব্যবহার করে আমাদের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী, মজবুত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত এমডিজি খুব সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছি, এসডিজিও সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যদিও করোনাভাইরাসের কারণে হয়তো কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে কিন্তু এ বাধা-বাধা নয়, আমরা এগিয়ে চলেছি। অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহার করে এসডিজি-১৪ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। আমি আশা করি, আমাদের সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তোমাদের (মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেট) ভূমিকা থাকবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সমুদ্র সম্পদ আহরণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগর শুধু আমাদের জন্য না, এটা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিশাল সম্পদ রয়েছে। সেই সম্পদ আমাদের আহরণ করতে হবে। এখানে যেমন মৎস্য সম্পদ আছে, তা ছাড়া অন্যান্য সম্পদও আছে। সেগুলো আহরণ করে আমাদের অর্থনীতিকে আমরা আরও শক্তিশালী করতে পারবো, এটাই আমি আশা করি। তোমরা সবসময় সাহসের সঙ্গে কাজ করবে। তোমাদের যে লব্ধ জ্ঞান, এ ক্ষেত্রে আরও বেশি সহায়ক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।