‘আওয়ামী লীগ ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধূলিসাৎ করেছে’

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের যে চেতনা ছিল, আওয়ামী লীগ তা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

আজ রোববার বিকেলে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনই ছিল আমাদের জাতিসত্তা নির্মাণের প্রথম ভিত্তি। কিন্তু খুব দুর্ভাগ্যের কথা, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের যে চেতনা ছিল এবং তার ধারাবাহিতায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা লড়াই করে যে একটা স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছিলাম, আজকে সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা, সেই চেতনা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।'

'আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে, সুচিন্তিতভাবে বাংলাদেশের যে আলাদা সত্তা, বাংলাদেশের যে আলাদা পরিচিতি-অস্তিত্ব, সেটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই একটা নতজানু রাষ্ট্রে পরিণত করেছে', তিনি যোগ করেন।

তিনি বলেন, 'আমরা কি  বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে চালু করতে পেরেছি? পারিনি। উপরন্তু আমরা দেখছি, শিক্ষা ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের বাংলা ভাষা আস্তে আস্তে সেখান থেকে চলে যাচ্ছে এবং আমাদের সন্তানরা, আমাদের ছেলেরা ভিন্ন পরিস্থিতি, ভিন্ন ভাষায় লেখাপড়া করছে এবং সবাই দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই যে পরিস্থিতি, তা আমরা কখনোই আশা করিনি।'

'এই সরকার আসার পর আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে ফেলেছে, আমাদের যে নির্বাচন ব্যবস্থা ছিল সেই ব্যবস্থাকে তারা ভেঙে ফেলেছে, আমাদের জনগণের যে ভোটের অধিকার, তাদের বেঁচে থাকবার যে অধিকার, তাদের কর্মসংস্থানের যে অধিকার, তা তারা ধ্বংস করে দিচ্ছে। তারা সমস্ত দেশটাকে লুটপাটের রাজত্বে পরিণত করেছে। একে একে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে, স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস  করেছে, অর্থনীতিকে তারা একটা লুটপাটের অর্থনীতিতে পরিণত করেছে', মির্জা ফখরুল বলেন। 

দুর্নীতি দমন কমিশনও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'দুর্নীতি দমন কমিশনের যে কর্মকর্তা অনেকগুলো দুর্নীতি মামলা দেখেছেন, তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতি দমন কমিশনকে পুরোপুরিভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত করে ফেলা হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'সময় খুব কম। আমাদেরকে নিজেদের সংগঠিত করতে হবে, অতি দ্রুত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে হবে। এই ভয়াবহ সরকার বেশি দিন ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না, বাংলাদেশ একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।'

'আজকে ৫২ এর  ভাষা আন্দোলন স্মরণ  করে, আমাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে স্মরণ করে, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপ্রেরণায় ঝাঁপিয়ে পড়ি। দেশনেত্রীকে মুক্তি করি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেশে নিয়ে আসি, দেশে সত্যিকার অর্থেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনের নির্বাচনের ব্যবস্থা করি', যোগ করেন তিনি।

দেশের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের  কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, 'এখন যে অবস্থা বা সংকট, সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদেরকে আরো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সমস্ত রাজনৈতিক দল ও মতকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এদেরকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব।'

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, 'ভাষা আন্দোলনের শিক্ষা হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করা। এই ভাষা দিবসে আমাদের শিক্ষা হচ্ছে মাথা নত না করা।'  

ভাষা আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সংগঠিত হওয়ার আহবান জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে এবং দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, ছাত্র দলের ফজলুর রহমান খোকন বক্তব্য দেন। 

বিএনপির কয়েক হাজার নেতা-কর্মী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।