মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার নির্দেশনা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ, বিশেষ করে মিসর ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে দ্রুত নিচের দেশগুলো ছাড়ুন।’

সতর্কবার্তায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে বাহরাইন, জর্ডান ও ইরাক থেকে অনেক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাহরাইন ও জর্ডানে কর্মরত কর্মীদের পরিবারের সদস্যদেরও চলে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে আজ মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আছে লেবাননে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইরানও পুরো অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায়। চতুর্থ দিনে গড়ানো এই সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় মধ্যরাতের কিছু পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, ইরান থেকে ছোড়া বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে জেরুজালেমও আছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুমকি মোকাবিলায় কাজ করছে। পরে তারা জানায়, তেহরান ও বৈরুতে একযোগে হামলা চালানো হচ্ছে।

রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, দুটি ড্রোন রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে আঘাত হানে এবং আগুন ধরে যায়। দূতাবাস হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মঙ্গলবার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।

এছাড়া কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, খুব শিগগিরই রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন হামলার জবাব দেওয়া হবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযান হবে ‘দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক’।

তিনি যোগ করেন, হয়তো কিছু সময় লাগবে, তবে বছরের পর বছর ধরে চলবে না।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর ‘কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রগুদাম’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত লেবাননি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরায়েলের ওপর তাদের রকেট ও ড্রোন হামলা ছিল ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’।

ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির সদর দপ্তরে হামলা চালিয়ে তা ‘অকার্যকর’ করেছে।

তবে আইআরআইবি টেলিগ্রামে জানায়, তেহরানে তাদের সদর দপ্তরের কাছে বিস্ফোরণ হলেও সম্প্রচারে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানায়, যুদ্ধের তৃতীয় দিনে ইরানে ১০১ জন হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৫ জন বেসামরিক নাগরিক ও ১১ জন সামরিক সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, যুদ্ধের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ইরানে ১ হাজার ২৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল কমান্ড সেন্টার, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিন, এবং অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র সাইট।