আজকের উন্নয়নের ভিত জিয়াউর রহমানের করা: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ যে উন্নয়নের কথা বলে তার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান করে দিয়েছিলেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি বলেই একটি স্বাধীন জাতিতে পরিণত হয়েছি, ভূ-খণ্ড পেয়েছি, অপার সম্ভাবনার দার খুলে গেছে। সেই মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন একজন কালজয়ী ক্ষণজন্মা পুরুষ আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ওই জায়গায় আমাদের কোনো প্রশ্ন থাকা উচিত নয়। প্রশ্নটা হচ্ছে, যারা মুক্তিযুদ্ধের সব কিছুর দাবিদার হয়ে গেল, যারা মনে করল একমাত্র তারা মালিক ও মোক্তার। যারা মনে করল দেশটারও তারা মালিক। জনগণ তাদের সেবক আর তারা প্রভু। স্বাধীনতার পরপরই তারা সেটার প্রমাণ দিতে শুরু করেছে। একে একে আমাদের স্বাধীনতার সমস্ত স্বপ্নগুলোকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম, লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে-আমাদের মা-বোনেরা সম্ভ্রম হারিয়েছে, সেই লক্ষ্যগুলোকে একেবারে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্বাধীনতার পরপরই। তারা স্বরূপে আবির্ভূত হয়ে লুট করতে শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত যখন কোনো কিছুই ধরে রাখতে পারে না, তখন সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে দিয়ে—আমাদের যেটা লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, তাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল করার চেষ্টা করেছিল। এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগ। যখনই সুযোগ পায়, যে কোনোভাবে ক্ষমতায় গিয়ে প্রথমে জনগণের অধিকার কেড়ে নেয় এবং লুট এমন শুরু করে যে গোটে দেশটাকে তারা ফোকলা করে দেয়।
আওয়ামী লীগ প্রতি মুহূর্তে চিৎকার করে উন্নয়ন উন্নয়ন, টাকার অভাব নেই। সেদিন জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, মানি ইজ নো প্রবলেম। কারণ তিনি আজকের ভিতটা রচনা করেছিলেন। একদিকে তিনি কৃষিতে বিপ্লব এনেছিলেন, আওয়ামী লীগের সময় দুর্ভিক্ষ। প্রতিটি কারখানায় ২-৩ শিফটে কাজ শুরু করেছিলেন। মুক্ত বাজার অর্থনীতি করেছিলেন। যত রকমের গবেষণার কাজ তিনি শুরু করেছিলেন। প্রবাসীরা এখন রেমিট্যান্স পাঠায়, তার আমলেই শুরু হয়েছিল বাইরে শ্রমিক যাওয়া। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সূচনা তিনিই করেছিলেন। তিনি গোটা বাংলাদেশকে আশার আলো দেখিয়ে একটা পথে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই পতাকা তুলে ধরেছিলেন। তখনই আমাদের প্রবৃদ্ধির হার ৭ ছাড়িয়ে গিয়েছিল, বলেন বিএনপি মহাসচিব।
আওয়ামী লীগ সমস্ত মিথ্যা দিয়ে, মানুষকে ভুল বুঝিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি দেখাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা বলছেন, প্রবৃদ্ধির হার বাড়ছে। অথচ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো, এমনকি সিপিডি বলেছে সমস্ত ভুল তথ্য। অন্যদিকে আমার বোন ফুটপাতে শুয়ে থাকছে। খাবার নেই। আমার ভাইয়েরা কাজ পাচ্ছে না। দেশে দারিদ্র্যের হার ২ শতাংশ বেড়ে গেছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা একদম কমে গেছে। দ্রব্যমূল্য এমনভাবে বেড়েছে যে, মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।
ফখরুল বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেবের রাতেও ঘুম হয় না, সকালেও ঘুম হয় না। তিনি সারাক্ষণ বিএনপির দুঃস্বপ্ন দেখতে থাকেন এবং সমানে কথা বলতে থাকেন। এ থেকেই তো বোঝা যায়, বিএনপি শুধু আছে না-বিএনপি প্রবলভাবে আছে। তাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। তিনি প্রায়ই বলেন, বিএনপিকে বিদেশিদের ওপর নির্ভর করতে হয় অথচ বিএনপি কোনো দিনই বিদেশিদের ওপর নির্ভর করেনি। ৯১ সালে বিএনপি সরকারে এসেছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ২০০১ সালেও জনগণের ভালোবাসায় তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। এখনো তিনি গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ৪০ বছর ধরে বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতি করছেন। ৪০ বছরই তিনি জনগণের ভালোবাসা নিয়ে সংগ্রাম করেছেন, এখনো করছেন।
একটা কথা মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতাবিরোধী সরকার। জনগণের বিরুদ্ধের সরকার। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করছি, তারা কীভাবে অর্থ উপার্জন করবে, লুটপাট করবে, কীভাবে বিদেশে পাচার করবে সেই লক্ষ্যে তারা কাজ করছে। এতটা ব্যর্থ, যে স্বাধীনতা পদক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন সেই পদন নিয়েও তারা দুর্নীতি করে। আমীর হামজা নামে একজনকে পদক দিয়ে সেটা বাতিল করে এখন তদন্ত করছে। আরও যাদের পদক দিয়েছেন তাদেরটাও তদন্ত করুন, তারা কারা। বেশির ভাগই হয় তারা মন্ত্রীদের আত্মীয়-স্বজন অথবা তারা প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন। দেশকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেছে যে, দেশকে রক্ষা করতে হলে একমাত্র এদের সরানো ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। গণতন্ত্রের সর্বনাশ করেছে, লাখ লাখ মানুষকে ঘরছাড়া করেছে। আমাদের ৩৫ লাখ নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ৬ শতাধিক মানুষকে তারা গুম করেছে। সহস্র মানুষকে তারা হত্যা করেছে, বলেন তিনি।