আশুলিয়ায় নাশকতার মামলায় বিএনপির ৪ কর্মী গ্রেপ্তার

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার

সাভারের আশুলিয়ায় নাশকতার পরিকল্পনা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের (বিএনপি) ঢাকা জেলা সভাপতি দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবুসহ ১২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার দ‍্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত রায়।

তিনি জানান, গতকাল বুধবার দুপুরে বিএনপি নেতাকর্মীরা আশুলিয়ার ঘুঘুদিয়া এলাকায় নাশকতা ও দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সমবেত হয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। সালাউদ্দিন বাবুর নেতৃত্বে এই পরিকল্পনা করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, 'খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও হামলা চালায়। হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের গণস্বাস্থ‍্য হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে বুধবার একটি মামলা দায়ের করেছি।'
 
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন- আশুলিয়ার ঘুঘুদিয়া গ্রামের মো. নবী হোসেনের ছেলে শাহিন মিয়া (২০), মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মো. সোহান (২০), মো. জজ আলীর ছেলে মো. মালেক (৩৫) ও শেহের আলীর ছেলে মো. জসিম (৪৮)। তারা সবাই বিএনপির কর্মী।
 
এ ছাড়া মামলার পলাতক আসামিরা হলেন- জিরাবো এলাকার দেওয়ান ইদ্রিসের ছেলে দেওয়ান মো. সলাউদ্দিন বাবু (৬০), আব্দুর মালেকের ছেলে সোবহার ও জহিরুল, রফিক মাতব্বরের ছেলে হাবিবুর রহমান (৪২), চাকল গ্রামের আবদুল্লাহের ছেলে আ. সালাম (৫০), মৃত তালেবর প্রামানিকের ছেলে আব্দুল হাই আবু তারু মাদবর (৫৮), পানধোয়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে কাজিম উদ্দিন (৪৫) ও গোকুলনগর গ্রামের ইয়াজ উদ্দিনের ছেলে আজিজুল হক আয়জল (৫৮)।

গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান এসআই সুব্রত রায়।

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি দেওয়ান মো. সলাউদ্দিন বাবুর ব‍্যক্তিগত সহকারী মো. শরিফুল আলম দ‍্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গতকাল ঘুঘুদিয়া এলাকায় আমাদের কর্মী সম্মেলন ছিল। সেখানে হাজারের অধিক নেতাকর্মী জমায়েত হন। অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক দেওয়ান মো. সলাউদ্দিন বাবু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন শেষ করে এমপি সাহেব (সলাউদ্দিন বাবু)-সহ অন‍্যান‍্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বেলা ১১টার দিকে চলে আসি। আমাদের কয়েকজন কর্মী চেয়ার সরাচ্ছিলেন। ওই মুহূর্তে কয়েকজন পুলিশ ৪ জন কর্মীকে তুলে নিয়ে যায়।'

'পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের হয়রানির উদ্দেশে একটি মিথ‍্যা মামলা দায়ের করেছে', দাবি করেন শরিফুল আলম।