আ. লীগের ‘ফাঁদে’ জনগণ আর পা দেবে না: মির্জা ফখরুল

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

আওয়ামী লীগের 'ফাঁদে' জনগণ আর পা দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সার্চ কমিটির কার্যক্রমের সমালোচনা করে আজ শুক্রবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, 'এরা (সরকার) গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। খুব কথা বলতে শুরু করেছে, কয়েকদিন আগে আমরা সার্চ কমিটিতে নাম দেইনি কেন? এটা জনগণের সঙ্গে চরম প্রতারণা। আমরা বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখেছি একইভাবে তারা তাদের ক্ষমতাকে রাখার জন্য তাদের সমস্ত লোকজনকে দিয়ে তৈরি করে এই নির্বাচন কমিশন। তারা যে নির্বাচন করে ওইটাকে বলে, আমরাই তো জিতে গেছি, আমরাই এসেছি এখানে গণতন্ত্র পার হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, ''আমি অত্যন্ত পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই দেশের জনগণ আর সেই ফাঁদে পা দেবে না। এ দেশের জনগণ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে আওয়ামী লীগের যত পরিকল্পনা আছে সব ধ্বংস করে দেবে, নষ্ট করে দেবে। অতীতের যে ঐতিহ্য, সেই ঐতিহ্য নিয়েই তারা আজকে রুখে দাঁড়াবে, অবশ্যই উঠে দাঁড়াবে।'

মির্জা ফখরুল বলেন, 'এই ভয়াবহ গণতন্ত্র বিরোধী, বাংলাদেশের মানুষ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে রুখে দেওয়ার জন্য তারা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে ইনশাল্লাহ।'

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন রচনা প্রতিযোগিতা কমিটির উদ্যোগে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে ১৭ জন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ৭৯ জন বিজয়ী হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'আজকেই পত্রিকায় এসেছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচক কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এরা সারাক্ষণ চিৎকার করছে উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন। মনে হয় গোটা বাংলাদেশকে তারা সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছে। হ্যারিটেজ ফাউন্ডেশন আন্তর্জাতিক সংস্থা আছে, তারা এই বিষয়ে যে জরিপ করেছে সেখানে তারা বলেছে যে, এখন ১৭৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা হচ্ছে ১৩৭তম। ২০২১ সালে ছিল ১২০তম। অর্থাৎ ১৭ ধাপ নিচে নেমে গেছে।'

'এই যে সূচক নিচে নামছে, এটা ক্রমান্বয়ে নামছে। কারণ তারা (সরকার) অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রথমে জনগণের রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ করে, তারা মানুষের অধিকারগুলো কেড়ে নিয়ে, মানুষের অর্থনৈতিক অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে। একে দুর্নীতির অর্থনীতি বললে ছোট করা হয়, লুটপাটের অর্থনীতি চালু করেছে। একেবারে ডাকাতি অর্থনীতি চালু করেছে। দুর্নীতি করাটা তাদের মজ্জাগত, এটাকে তারা অপরাধ মনে করে না, এটাকে তারা অধিকার মনে করে।'

স্বাস্থ্য, সড়ক, যোগাযোগ, সেতুসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'এসব লুটপাট হচ্ছে তাদের কাছে উন্নয়ন। তাদের উন্নয়ন হয়েছে, তারা কোটিপতি হয়েছে। তারা বিদেশে বেগমপাড়া তৈরি করছে। এসব খবর উঠে আসছে।'

'যাদেরকে ব্যবহার করে তারা ক্ষমতাকে টিকিয়ে রেখেছে তাদের সঙ্গে শেয়ার করছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, আমরা খুশি হবো। কিন্তু সেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের আয়ের তো বৃদ্ধি করতে হবে, সেই সুযোগ তো তৈরি করতে হবে। সেটা কিন্তু হচ্ছে না।'

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আজকে ইনফ্লেশন ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। আজ চাল-ডাল-তেল-লবণের দাম যে হারে বেড়েছে এটা কোনো স্বাধীন দেশে চলতে পারে না।'

'এটা তো পুরোপুরিভাবে ভেনিজুয়েলা বা নাইজেরিয়ার মতো অবস্থা হয়ে যাচ্ছে, যেখানে আপনার এই অপচয়, অপব্যবহার, দুর্নীতির কারণে এ দেশ একটা ফেইল্ড স্টেটে পরিণত হয়েছে।'

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, 'করোনা পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হচ্ছে। আমরা এখন থেকে পুরো মার্চ মাসব্যাপী আমাদের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করবো। এই সব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতার সঠিক ও প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরব।'