আ. লীগ পরিকল্পিতভাবে ছদ্মবেশী একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়: ফখরুল

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ দেশে ছদ্মবেশী একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, আমরা আজ এমন সময় ইফতার মহফিলে একত্রিত হয়েছি, যখন সারা দেশে গণতন্ত্রহীনতা বিরাজ করছে। যখন আমাদের বুকের ওপর একটি বেআইনি জবর-দখলকারী সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। ক্ষমতা দখল করার পরে তারা একে একে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, প্রত্যেকটা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে তারা ধ্বংস করেছে এবং বাংলাদেশে জনগণকে একটি অন্ধকার গহ্বরের দিকে নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এই আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই দেশে একটি ছদ্মবেশী একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সে জন্য একে একে সমস্ত স্বাধীন যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ফেলেছে। সবার আগে তারা হাত দিয়েছে সেটা হচ্ছে বিচার বিভাগ। এই বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে আজকে জনগণের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা, দেশে মানুষ অন্তত তার প্রয়োজনের সময় যখন নির্যাতিত হবে রাষ্ট্র দ্বারা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তখন যেন সে বিচার বিভাগের কাছে গিয়ে রিলিফ পায়, আশ্রয় পায়। দুর্ভাগ্যের কথা আজকে সেই বিচার বিভাগকে তারা দলীয়করণ করে নিয়ন্ত্রণ করে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে যেখানে বেশির ভাগ রায় হচ্ছে এখন বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে যে রায়গুলো হয়, সব রায়গুলো হচ্ছে একেবারে জনগণের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে।

আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান যিনি রাজনীতির সঙ্গে কখনই সরাসরি জড়িত হননি, তার বিরুদ্ধেও দুদক একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে আবার তার বিরুদ্ধে মামলার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, এটা অত্যন্ত বেআইনি কাজ। আমরা মনে করি, এটা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শুধু নয়, বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে—বলেন ফখরুল।

তিনি আরও বলেন, এই সমস্যাগুলোকে কাটিয়ে আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।