ইউপি চেয়ারম্যানকে তুলে নেওয়ার হুমকি কাদের মির্জার

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিরাজিস সালেকিন রিমনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে।

ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজিস সালেকিন সম্পর্কে কাদের মির্জার ভাগনে।

রোববার সকালে উপজেলার বামনীয়া বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কাদের মির্জা বক্তৃতা দেওয়ার সময় এ হুমকি দেন।

বক্তৃতার ৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গেলে, তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'একটা পকেটমার, দখলদার, সন্ত্রাসী, জুয়াড়ি তাকে এখানে মানুষ ভোট দেয় নাই। ভোট চুরি করে প্রশাসনের সহযোগিতায় চেয়ারম্যান হয়। তোর তুন বড় চেয়াম্যান অগল অড়া হামালি গেছে, তুই কিয়া। সাবধান করে দিয়ের। উডাই লই যামু ইয়ানতুন, ইয়ানতুন উডাই লই যামু। উডাই লই যাই বাপের নাম ভুলাই দিমু। সাবধান।'

'তোর মতো কত ডন কোম্পানীগঞ্জ থেকে বিদায় নিছে। তুই অডা ডন। আমাদের ছেলেদের গায়ের ওপর হাত দেচ। কত বড় শক্তি। তোর অডা সন্ত্রাসী হামাল, আর তুই হামালি যা,' বলেন তিনি।

বক্তৃতায় কাদের মির্জা বলেন, 'এখানে যারা গত পরশু আমাদের অফিসে হামলা করেছে, তারা দুষ্কৃতিকারী। তারা অতীতেও এখানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনে বৈতরণী পাড়ি দিয়েছে। এখন এখানে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে। এটা মূলত আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের সাহেব ঈদের পরে কোম্পানীগঞ্জে আসতেছেন। তিনি আমাদের উপজেলা কার্যালয় উদ্বোধন করবেন এবং এখানে দীর্ঘ দিনের অচল অবস্থার অবসান ঘটাবেন। আজকে তারা আমাদের মন্ত্রী মহোদয়ের উদ্যেগকে ব্যাহত করার জন্য মূলত এ ঘটনা ঘটাচ্ছে।'

অনুসারী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কাদের মির্জা বলেন, 'কোনো যড়যন্ত্রকারীর ষড়যন্ত্রে পা দিবেন না। রোজার মাসে আমরা সংযত থাকব। মানুষ কষ্ট পায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবো না। অফিস ভেঙেছে, মামলা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন কী করে আমরা দেখব।'

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের উদ্দেশে কাদের মির্জা বলেন, 'বাদল্লা ডন ঘরে ঢুকি গেছে। হেতে মার্ডার কেছে পড়বে, বাঁচতে পারবে না। যমুনা টিভিতে প্রচার করে যে দেখছেন নি। ধরা খাই গেছে হেতে।'

এর আগে শনিবার রাত ৮টার দিকে এক প্রতিবাদ সভায় কাদের মির্জাকে উদ্দেশ্য করে ভাগনে সিরাজিস সালেকিন রিমন বক্তব্য দিয়েছিলেন।

তার প্রতিক্রিয়ায় রোববার কাদের মির্জা এ বক্তব্য দিলেন।

বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজিস সালেকিন রিমন বলেন, 'বিষয়টি আমি নোয়াখালীর পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি এবং হুমকির ভিডিও চিত্রও পাঠিয়েছি।'

'এ ঘটনায় আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছি,' বলেন তিনি।

সালেকিন রিমনের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে কাদের মির্জার মোবাইলে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসির দায়িত্বে থাকা কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, 'মেয়র কাদের মির্জা কাউকে হুমকি দিয়েছেন, এমন কোনো অভিযোগ মৌখিক কিংবা লিখিত আকারে পাইনি।'

গত শুক্রবার সকালে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বামনী বাজারের টোল আদায়কে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজিস সালেকিন রিমন ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে দোকান ভাঙচুরসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়।