‘উন্নয়নের পেছনে যে দুর্নীতি চলছে সেসব জনগণকে বলেন না কেন’

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, 'বর্তমানে দেশে এক ধরনের দুর্ভিক্ষ চলছে। স্বল্পমূল্যে-ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে টিসিবির লাইনে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে। মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে মনে, সরকারই তো অন্যায্য। সে আবার ন্যায্যমূল্যে খাওয়াবে। ন্যায্যমূল্য তো সকলের জন্যে উন্মুক্ত হতে হবে। ট্রাক দিয়ে সচিবালয়ের সামনে দাঁড়ায় থাকা, প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়ায় থাকা, আর এটা টিভিতে প্রচারের মধ্যে দিয়ে দেশের কত ভাগ মানুষকে ন্যায্যমূল্যে জিনিস খাওয়ানো গেছে। দশমিক ৫ ভাগও না। তার মানে ৯৯.০৫ ভাগ মানুষই নায্যমূল্যে পণ্য পাচ্ছে না।'

আজ মঙ্গলবার ঢাকার ধামরাইয়ের শরীফবাগ শরীফুন নেছা মহিলা মাদ্রাসার মাঠে ধামরাই উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, 'করোনার কারণে বেকার সমস্যা দেখা দিয়েছে। কলকারখানার উৎপাদন কমেছে। তারা আগের মতো লোক রাখতে পারছে না। ছাঁটাই করছে। দেশে কাজের অভাব। দিনমজুররা কাজ পায় না। এর মধ্যে দাম বেড়েছে। মাঝে মাঝে গর্ব করে বলা হয়, আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছি। আগে স্বল্প আয়ের দেশ ছিল। ১০ বছরে মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছি। কিন্তু দেশের বাজারমূল্য বিবেচনা করলে দেখা যাবে, উচ্চ আয়ের দেশের চেয়ে দাম বেশি। তাহলে এটা কোন ধরনের মধ্যম আয়।'

তিনি আরও বলেন, 'টিভি পত্রিকায় দেখানো হয় ২ হাজার ডলারের বেশি মাথাপিছু আয় বেড়েছে। কিন্তু একটা কথা বলা হয় না, জনগণের মাথাপিছু কত টাকা ঋণের বোঝা আছে। আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার কথা হিসাব করি তাহলে চাল কেনার টাকা থাকার কথা না। এই ঋণের টাকা এত হলো কেন? উন্নয়নের চাপাবাজি শুনি। সাংবাদিক ভাইদের বলবো উন্নয়নের পেছনে যে দুর্নীতি চলছে নীরবে নিভৃতে প্রকাশ্যে সেসব জনগণকে বলেন না কেন? যদি দুর্নীতি না থাকতো তাহলে এতো টাকা পাচার হলো কীভাবে?'

বিএনপির এই নেতা বলেন, 'কথায় কথায় যিনি মানুষ মারতে অভ্যস্ত এবং মানুষ গুম করে ফেলতে অভ্যস্ত, যিনি অন্যের সমালোচনা শুনতে অভ্যস্ত না তাকে আর যাই বলা হোক গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক মানুষ বলা যায় না। গণতন্ত্র মানেই তো বহু মত, বহু পথ। গণতন্ত্র মানেই তো সমালোচনা থাকবে। অন্যের মতামতের সঙ্গে আমি একমত না হতে পারি। কিন্তু অন্যের মত প্রকাশকে আমি সম্মান করবো। সবাই সবার মতের সঙ্গে একমত হবে এমন বিধান নাই। নানা মানুষ নানা মত, কিন্তু দেশ বাঁচাতে একমত। আজকেও গণতন্ত্র উদ্ধারের প্রশ্নে অনেক দলের অনেক মত, অনেক কথা অনেক বিষয় আছে। কিন্তু যত মতই থাকুক। ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দেশ বাঁচানোর ক্ষেত্রে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ক্ষেত্রে রাজপথের বিকল্প নাই। এই ব্যাপারে সবাই একমত। দেশবাসী একমত।'

তিনি আরও বলেন, 'আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনগণের আস্থার ওপর ভরসা রেখে বলেছেন আগামী দিন বাংলাদেশের ফয়সালা হবে রাজপথে। আন্দোলন মানেই রাজপথ। আন্দোলন মানে ঘরে বসে থাকা না। ঘরে বসে আন্দোলন হয়? হয় না। ঘরে বসে সুখেও থাকা যায় না। ঘরে থাকলেও মরতে হয়, বাইরে গেলেও মরতে হয়। ঘরের বাইরে গেলে ঘরে ফেরার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। নিরাপদ থাকতে ঘরে থাকলেও সকালে ঘরে লাশ পাওয়া যায়।'