উপজেলা বিএনপি সভাপতির ওপর হামলার অভিযোগ পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে
নাটোরের গুরুদাসপুরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে পরাজিত এক সদস্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত আব্দুল আজিজকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মতিন দ্য ডেইলি স্টারকে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহত আব্দুল আজিজের ছেলে মাহামুদুজ্জামান সোহাগ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গ্রামের একটি জানাজা শেষে বাবা বিকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় নয়াবাজারের সাবেক মেম্বার ও আওয়ামী লীগের সমর্থক আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৮-১০ জন লোক ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।'
পরে স্থানীয়রা আজিজকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
যোগাযোগ করা হলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ডেইলি স্টারকে জানান, আব্দুল আজিজ বিএনপির সাবেক এমপি প্রার্থী ছিলেন।
'তাকে হত্যার জন্য ধারাবারিষা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মতিনের সমর্থক ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল তার ওপর হামলা চালিয়েছে,' বলেন তিনি।
তবে আওয়ামী লীগ মনোনীত ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমিরুল আমার সমর্থক নয়।'
তিনি জানান, সম্প্রতি ৫ম ধাপের ইউপি নির্বাচনে আমিরুল ইসলাম সদস্য পদে দাঁড়িয়ে পরাজিত হয়। বিএনপি নেতা আজিজ জয়ী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায়, আমিরুল তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করে থাকতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তার মুঠোফোনে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. আব্দুল মতিন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, হামলার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিরোধের কারণে নাকি নির্বাচনকেন্দ্রীক বিরোধের কারণে এ হামলা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।