একজন ব্যক্তির ভয়ে সবাই তটস্থ, কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় কামরুল

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কামরুল ইসলাম বলেছেন, এমন একজন ব্যক্তি আছে যার ভয়ে সবাই তস্থ। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে সবার সাহস সঞ্চয় করে।

আজ শুক্রবার নির্বাচনী এলাকায় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে লাভ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অহেতুক আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। আমাদের মতামতের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় আমরা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি। নির্বাচন হয়েছে ৩ মাস, হযরতপুর ইউনিয়নের রেজাল্ট নেই। কে পাস করল রেজাল্ট পেলাম না। অনেক জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থী পাস করেছে। হযরতপুর ইউনিয়নবাসী একজন চেয়ারম্যান চায়, ৩ মাস পর্যন্ত তাদের চেয়ারম্যান নেই—এটা কী! কোনো পত্রিকায় এই সংবাদ নেই। এমন একজন ব্যক্তি আছে যার ভয়ে সবাই তটস্থ। ভয়ে তটস্থ বা নিজের সম্মান রাখার জন্য টতস্থ। সাংবাদিক, রাজনীতিক, সব পর্যায়ের মানুষ টতস্থ। ফলে যা খুশি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে সবার সাহস সঞ্চয় করে। অনেক দুঃখে কথাগুলো বললাম। আমার বিরুদ্ধে গোলমাল করার জন্য বিএনপি না, ওই একটা চক্র আমাদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। সম্মেলনে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। অনুপ্রবেশ ঘটনোর চেষ্টা করবে। বি কেয়ারফুল, আমরা একটা সফল সম্মেলন করবোই।

যথা সময়ে কমিটি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মেলন না করে ঝুলিয়ে রাখবো আহ্বায়ক কমিটি সেই মানসিকতা আমার নেই। আমি অনেক দিন উপস্থিত ছিলাম না। আমার বয়স বেশি, ডায়াবেটিস আছে, স্বাস্থ্যবিধি বেশি মেনে চলেছি জন্য আসিনি। এখন আসবো। যখনই ডাকবেন, যখনই প্রোগ্রাম থাকবে, তখনই উপস্থিত হবো। ভার্চুয়ালি ছিলাম, এখন সশরীরে উপস্থিত থাকবো। আলাপ-আলোচনা করে কমিটি হবে। সম্মেলনের মঞ্চে যাতে কোনো কথা না হয়।

কামরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী সংগঠন দরকার, আন্দোলনের জন্য শক্তিশালী সংগঠন দরকার, আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্যও শক্তিশালী সংগঠন দরকার।

কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ অনুপ্রবেশকারী ঢোকানোর চেষ্টা করুক, দক্ষিণ থেকে-পশ্চিম থেকে এসে এখানে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করুক, আমরা প্রতিহত করবো।

আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি। অহেতুক কেন আমাদের প্রতিপক্ষ বানায়। এক হোক-না হোক যেভাবে আসন বিন্যাস হবে আমি তো সেভাবেই কাজ করবো। দলের প্রতি আমার আনুগত্য আছে বলেই তো প্রধানমন্ত্রী আমাকে দলের প্রেসিডিয়াম মেম্বার করেছেন। চাঁদ উঠলে সবাই দেখবে, জোর করে চাঁদ উঠাতে চান কেন, প্রশ্ন রাখেন কামরুল।

বিএনপি অহেতুক আওয়ামী লীগকে দোষ দেয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে চেয়েছি। বিএনপি নির্বাচনে আসেনি। এরপর তারা নির্বাচনের নামে বাণিজ্য করেছে। ২০০১-০৬ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ অফিসের ফুটপাতে আমাদের দাঁড়াতে দেয়নি। এখন আপনারা মিটিং-মিছিল সবই করছেন। রাজনীতি করতে হলে জেলখানায় যেতে হবে, মামলা হবে। 

বিরোধীদলীয় রাজনীতি করার যোগ্যতা বিএনপির নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় রাজনীতি করার, ত্যাগ স্বীকার করার মানসিকতা বিএনপির নেই, যোগ্যতা নেই। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় এসেছেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। আর্মির লেবাস পরে। এসে সরকারে থেকে দল গঠন করেছেন। বিরোধীদলের যে ত্যাগের মানসিকতা, আপনাদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সেটা নেই। আর আপনাদের তো নেতা নেই, পাবলিক ভোট দেবে কেন!