‘এখনো সময় আছে লাগাম টেনে ধরেন’- ওবায়দুল কাদেরকে একরাম
আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে লাগাম টেনে ধরতে বলেছেন নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্নচর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী।
একরাম চৌধুরী বলেন, 'আমি কাদের সাহেবকে সম্মান করে একটা কথা বলতে চাই, এখনো সময় আছে লাগাম টেনে ধরেন। আওয়ামী লীগ ও নোয়াখালীকে বাঁচান। সবার আঙুল কিন্তু আপনার দিকে।'
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি পরবর্তী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হবেন বলেও এ সময় ঘোষণা দেন।
এর আগে গত ১০ মার্চ বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টার দিকে একরামুল করিম চৌধুরী সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতাল থেকে নিজের ভেরিফাইড আইডি থেকে লাইভে এসে বলেন, 'ওবায়দুল কাদের নোয়াখালীর সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি এবং তিনি নোয়াখালী তথা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনেক ক্ষতি করেছেন যা পুষিয়ে নিতে আওয়ামী লীগের অনেক কষ্ট হবে।'
এ মন্তব্যে দলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
আজ একরাম চৌধুরী বলেন, 'আমি জানি না মির্জা কাদের কার নির্দেশে, নোয়াখালী আওয়ামী লীগকে দ্বিখণ্ডিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু নোয়াখালীর ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের এরা কিন্তু দ্বিখণ্ডিত হতে দেয় নাই। অনেকেই মনে করেছে আমি এমপি, আমি হয়তো ত্যাড়ামি করব। পারিনা আমি আমার দলের বিরুদ্ধে ত্যাড়ামি করতে। এটা আমার দ্বারা সম্ভব না।'
এ সময় তিনি বলেন, 'আগামী ২৩ তারিখ আওয়ামী লীগের সম্মেলন। জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে চায় আমি সভাপতি পদে দাঁড়াতে চাই। আরেকটা কথা বলি যারা বর্তমান আহবায়ক কমিটিতে আছেন, যারা টাকার বিনিময়ে নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছিলেন তাদের কোনো ক্ষমা নাই। আর যারা আওয়ামী লীগকে কটূক্তি করছেন, তাদের উদ্দেশে বলছি আমি আওয়ামী লীগের পার্লামেন্ট মেম্বার। আমার বিরুদ্ধে বলা আর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বলা এক কথা।'
তিনি বলেন, 'আপনারা যারা টেন্ডার বাজি থেকে সুবিধা নিতে চান, করেন কিন্তু সাধারণ পাবলিকদের নিয়ে করেন, আমার সাধারণ কর্মীদের নিয়েও করেন, শুধু আপনারা খাবেন, আমার কর্মীরা খাবে না তা হবে না। অমি কিন্তু ঘুরে দাঁড়িয়েছি। আমি গত এক বছরের একরাম চৌধুরী না। আমি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। এখন মরতে হলে কর্মীদের জন্য মরবো।'
এর আগে সকালে নোয়াখালী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আয়োজনে ১০১ জন শিশুকে নতুন জামা দেওয়া হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও নোয়াখালী পৌর মেয়র মো. শহিদ উল্যাহ্ খান সোহেল।
