কথা বললে শিরশ্ছেদও হতে পারে এ রকম অবস্থা: ফখরুল
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং গণমাধ্যমকর্মী খসড়া আইনের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সামগ্রিকভাবে শুধু কর্তৃত্ববাদী বললে ভুল হবে, ফ্যাসিবাদী একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখানে কথা বলার কোনা স্বাধীনতা তো নেই, কথা বললে শিরশ্ছেদও হতে পারে এ রকম অবস্থায় তৈরি করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, আমি সঠিক পরিসংখ্যান এখনো পাইনি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রায় ৮৫০টি মামলা রয়েছে। নতুন আরেকটা বিল করছে, গণমাধ্যমকর্মী আইন। এই আইন সাংবাদিকরা করছে না, করছে সংসদ সদস্যরা; যারা নির্বাচিত হয়নি। যারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে তারা আইন করবে গণমাধ্যমের জন্য। সেটা কী অবস্থা দাঁড়াবে আমরা জানি।
নতুন হচ্ছে, উপাত্ত সংরক্ষণ আইন। ৩৪ পৃষ্ঠার খসড়া দিয়েছে। কিছু দিন আগে দিলো সোশ্যাল মিডিয়া কন্ট্রোল করবে তারা। বক্তব্যগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে উড়িয়ে দিতে পারবে। সামগ্রিকভাবে শুধু কর্তৃত্ববাদী বললে ভুল হবে, ফ্যাসিবাদী একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। এখানে কথা বলার কোনা স্বাধীনতা তো নেই, কথা বললে শিরশ্ছেদও হতে পারে এ রকম অবস্থায় তৈরি করা হয়েছে—বলেন তিনি।
ফখরুল আরও বলেন, যুদ্ধ যখন হয়, সংগ্রাম যখন হয় তখন দালাল থাকে। বিভিন্ন রকমের মানুষ থাকে যারা ফায়দা নিতে চায়। এগুলো কাটিয়ে আমাদের ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। সেটা হতে হবে ইস্পাত দৃঢ় ঐক্য। সেই ঐক্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে আমরা মুক্ত করবো। আমরা লেখার স্বাধীনতা নিশ্চিত করবো। এটা আমাদের দায়িত্ব, এই দেশকে মুক্ত করা, গণতন্ত্রকে মুক্ত করা, স্বাধীনতাকে ফিরিয়ে আনা।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৩ বছর ধরে কারাগারে। তাকে জামিন দেওয়ার জন্য কতবার আদালতে উঠেছে এবং তাকে জামিন না দেওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। প্রত্যেকবার তার জামিন নাকোচ করে দেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগের কথা বলে লাভ নেই। আমাদের এখন কাজ করতে হবে, সরাতে হবে। বিচার বিভাগকেও বাধ্য করতে হবে ন্যায় বিচার করার জন্য এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করতে। আমরা চেষ্টা করছি, আমরা নিশ্চয়ই জয় লাভ করবো। কথা একটাই সূর্যোদয় হবেই, হতেই হবে। অন্যায়কে ন্যায়ের কাছে পরাজিত হতে হবে, বলেন বিএনপি মহাসচিব।
ন্যায্যমূল্যের কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জোর গলায় বলা হচ্ছে, ১ কোটি কার্ড দেওয়া হয়েছে গরিব মানুষদের। পত্রিকাতেও এসেছে, আমার ঠাকুরগাঁওয়ে যাকে কার্ড দিয়েছে তিনি হলেন আওয়ামী লীগের মহিলা দলের সভানেত্রী। তার দোতলা বাড়ি। পাশেই একজন দুস্থ, গরিব মানুষ যার টিনের চালাও নেই—সে কোনো কার্ড পায় না। এই অবস্থা দেশের।